ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতাকারী হেফাজতে ইসলামে বিভক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘর্ষে আহত হন ২০ জন। সোমবার সকালে দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা।
সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে হামলা, পাল্টা হামলাসহ ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করে পুলিশ।
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জিয়ারখী ওই এলাকায় আগে থেকেই জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত লোকজনদের দলে ভিড়িয়ে দল ভারী করার প্রতিযোগিতা ছিল। সম্প্রতি ওখানে একপক্ষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সমর্থনে এবং অন্যপক্ষ হেফাজতের সমর্থন নিয়ে মারদাঙ্গা হয়ে ওঠে। বিষয়টি আইনশৃংখলা বাহিনীও অবগত ছিলে। অথচ সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, জামায়াত-বিএনপির লোকদের দলে ভিড়িয়ে দল ভারি করার অসুস্থ প্রতিযোগিতার দ্বন্দ ছিল আগে থেকেই। এরই মধ্যে সদর উপজেলার ৩৬ নম্বর জিয়ারখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মানাধীণ নতুন ভবনের উপকরণ-সরঞ্জামসহ নির্মান সামগ্রী চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুপক্ষ সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। এর সুরাহা করতে ইতিপূর্বে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা শালিস-মিমাংসা করে দেন।
তারা জানান, রবিবার বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক সমর্থিত পক্ষের লোকজন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আহসান সর্দার সমর্থিত লোকদের ওপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করলে নতুন করে এ সংঘর্ষে সূত্রপাত ঘটে। এ সময় পরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ কুষ্টিয়া মডেল থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকার পরও সোমবার সকালে আহসান সরদারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে আজিজুল হকের লোকজনদের বাড়িঘরে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। জিনিসপত্রসহ গরু-ছাগল ও নগদ অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।
তারা বলেন, সোমবার সকালে মারামরির ঘটনায় ২০ জন গুরুতর আহত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তরে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: তাপস কুমার সরকার আহতদের তথ্য নিশ্চিত করেন।
কুষ্টিয় মডেল থানার ওসি তদন্ত নিশিকান্ত সরকার বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।