প্রগতিশীল শিক্ষকদের সঙ্গে রাবি উপাচার্যের ‘লুকোচুরি খেলা’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রগতিশীল শিক্ষকদের স্টিয়ারিং কমিটির সঙ্গে ‘সময় দিয়েও’ দেখা করেননি  বলে অভিযোগ তুলেছেন ১৫ শিক্ষক।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় ও উপাচার্য বাসভবনে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন তারা।

তারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষকদের সঙ্গে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিলসহ নয়টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেই চিঠি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি কমিটির সদস্যদের জানান তিনি অফিসে নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে স্টিয়ারিং কমিটির নবনির্বাচিত সদস্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্যাহ বলেন, ‘আমরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার অফিসে গিয়ে সচিবের সঙ্গে কথা বললে সচিব জানান, উপাচার্য অফিসে নেই, গাড়ি নিয়ে বাইরে গেছেন। কিন্তু আমরা জানতে পারি, উপাচার্য অফিসে না থাকলেও বাসভবনে রয়েছেন। সেখানেই তিনি নিচতলায় অফিস করছেন। সেখানে তার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলে সেখানেও আমাদের জানানো হয়, উপাচার্য নিচতলায় নেই। তিনি ওপরতলায় উঠে গেছেন। তিনি কোন অফিসের কার্যক্রম করছেন না। তবে আমরা জানতে পেরেছি, উপাচার্য নিচে বসেই অফিস করছেন এবং আমাদের সামনেই সেই অফিস থেকে কিছু ফাইল স্বাক্ষর করে নিয়ে আসা হয়েছে।’

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, এর আগেও উপাচার্য মহোদয় দলীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ৫ এপ্রিলে দুপুর ১২টায় সিনেট ভবনে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান। নির্ধারিত সময়ে তারা ১৬ জন সদস্য সিনেট ভবনে উপস্থিত হন। তখন তারা উপাচার্য অফিসে যোগাযোগ করে ৫ এপ্রিল দুপুর ১২টায় সিনেট ভবনে এ ধরনের কোনো সভার পূর্ব-নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না বলে জানতে পারেন। এ ছাড়া উপাচার্য  দৈনিক কর্মসূচিতেও বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত ছিল না বলে দপ্তর থেকে জানতে পারেন।

এ সময় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় আমাদের সঙ্গে এমন লুকোচুরি খেলে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের বিশ্বাসী ৬৮৮ জন শিক্ষকেই অপমান করছেন।’

তবে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও চৌধুরী জাকারিয়া এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কমিটির সদস্যরা।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা কিছু দাবি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু কোনো একটা কারণে তারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। কমিটির সদস্যরা তাদের দাবিগুলো আমার কাছে জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, মাননীয় উপাচার্য স্যারকে যেন আমি এই দাবির বিষয়গুলো জানাই।’

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।