৩-১ গোলে প্রথম লেগ জিতে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখা রিয়াল মাদ্রিদ আজ চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টারের ফিরতি পর্বে লিভারপুলের মাঠে খেলতে নামছে। আরেকটি জয় দুই মৌসুম পর ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার শেষ চার নিশ্চিত করবে তাদের। অন্যদিকে অল রেডরা যদি ২-০ গোলে জেতে অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে সেমিতে উঠবে তারা। কাজটা ইয়ুর্গেন ক্লপের দলের জন্য কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ২০১৮-১৯’র সেমিফাইনালে বার্সেলোনার মাঠে প্রথম লেগ ০-৩ গোলে হারের পর, অ্যানফিল্ডে দ্বিতীয় লেগ ৪-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠেছিল লিভারপুল। পরবর্তীতে শিরোপাও জিতেছিল।
গেল শনিবার ‘এল ক্লাসিকো’ জিতে বেশ ফুরফুরে আছে রিয়াল। সব প্রতিযোগিতা মিলে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত তারা। অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলাকে সবশেষ লিগ ম্যাচে হারিয়ে অ্যানফিল্ডে ৬ ম্যাচ হারের চক্র থেকে বেরিয়ে এসেছে লিভারপুল। অথচ এই দলটির কাছেই মৌসুমের শুরুর দিকে ২-৭ গোলে হেরেছিল অল রেডরা। তাই বলা যায়, এবার লিভারপুলের প্রস্তুতিটা ভালোই হয়েছে। ক্লপ ম্যাচকে সামনে রেখে মনে করিয়ে দিয়েছেন বার্সেলোনার সঙ্গে সেমির কথা। বলেন, ‘আপনি বার্সার বিপক্ষে (অ্যানফিল্ডের) ম্যাচটি দেখেন (২০১৮-১৯ মৌসুমের)। মাঠের দর্শকদের একটা ভূমিকা ছিল। হ্যাঁ, আমাদের আবারও তেমনটি করতে হবে, তবে দর্শক ছাড়া।’
অ্যানফিল্ডে রিয়ালের বিপক্ষে লিভারপুলের বড় জয় ও হার দুই অভিজ্ঞতাই আছে। ২০০৮-০৯ চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রি-কোয়ার্টারে লিভারপুল ৪-০ গোলে ম্যাচ জিতেছিল রিয়ালের বিপক্ষে। ২০১৪-১৫ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে রিয়ালের কাছে লিভারপুল হেরেছিল ৩ গোলে। দু’দল সব মিলিয়ে ৭টি ম্যাচ খেলেছে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায়। লিভারপুল জিতেছে তিনটি, রিয়াল চারটি। তবে রিয়াল এই চার ম্যাচ জিতেছে শেষ চার দেখায়।
দু’দলেই আছে ইনজুরির থাবা। লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে রামোস ইনজুরির কারণে মাঠে নামতে পারবেন না আগেই জানা ছিল। তবে নতুন খবর করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন তিনি। রামোস বাদেও রাফায়েল ভারানে, লুকাস ভাসকেসও ইনজুরির কারণে দলের বাইরে আছেন। দানি কার্ভাহাল ও ইডেন হ্যাজার্ডের খেলা নিয়েও আছে শঙ্কা। লিভারপুল পাবে না জোয়েল মাতিপ, জর্ডান হ্যান্ডারসন, ভার্জিল ভ্যান ডাইকের মতো খেলোয়াড়কে।
ডর্টমুন্ডের মাঠে পরীক্ষা ম্যানসিটির
নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটি ২-১ গোলে হারায় বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে। জিতেও যে স্বস্তিতে ছিল না সিটি, ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেই বোঝা যায়। ডর্টমুন্ড যে একটি অ্যাওয়ে গোল দিয়ে রেখেছে। আজ নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে জিতলেই মার্কো রেউসের ওই গোলের সুবাধে সেমিফাইনালে চলে যাবে ডর্টমুন্ড। অন্যদিকে ম্যাচ ড্র হলেও পেপ গার্দিওলার দল যাবে সেমিতে। নকআউড রাউন্ডে প্রথম লেগ হারের পরও পরের রাউন্ডে ওঠা এমনটা বরুশিয়া এর আগে একবারই করেছে। আর প্রথম লেগ জয়ের পরও বিদায় নিতে হয়েছে ম্যানসিটির ক্ষেত্রে এমনটি সবশেষ হয়েছে ২০১৬-১৭ মৌসুমে। সেবার প্রি-কোয়ার্টারের প্রথম লেগ ৫-৩ গোলে জিতলেও দ্বিতীয় লেগ মোনাকোর কাছে ম্যানসিটি হেরেছিল ১-৩ ব্যবধানে।
আজ ডর্টমুন্ডের মাঠ সিগনাল ইদুনা পার্কে উতরে যেতে পারে কিনা সেটিই হবে দেখার বিষয়।