নুরের দাবি হয়রানিমূলক মামলা, পুলিশ বলছে ছাড় দেবে না

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশের পর একাধিক মামলায় ছাত্র, যুব ও শ্রম অধিকার পরিষদের ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সব মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।

ছাত্র, যুব ও শ্রম অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে মামলাকে ‘হয়রানিমূলক’ বললেও পুলিশ জানাচ্ছে, নুরুল হক নুর শিবির নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন, তাদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

সংগঠনটির আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সব কটি মামলাই হয়রানিমূলক। গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আগে সতর্ক করা হলেও গত ২৫ মার্চ মতিঝিলে মিছিল নিয়ে যান তারা। সেখান থেকেই ৩৮ জনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

আরও বলেন, ২৭ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাসের সামনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নতুন একটি মামলা দেওয়া হয়। সফরকে কেন্দ্র করে কমপক্ষে চারজন গুম হয়েছিলেন। তাদের একজনকে ৮৪ ঘণ্টা আটকে রেখে পুলিশ ছেড়ে দেয়। বাকি তিনজনকে দুদিন আটকে রাখার পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এজাহারে নাম না থাকারও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অধিকার পরিষদের অভিযোগ।

সবশেষ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ছাত্র ও ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যাওয়ার দাবি করে দলটি।

একাধিক অভিযোগে গত ২৫ মার্চ পল্টন ও শাহবাগ থানায় দুটি এবং ২৭ মার্চ শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়।

পল্টন থানার মামলায় হত্যাচেষ্টা, মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা ঘটানো, বেআইনি সমাবেশ, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয় ৫১ জনের নামে। এর বাইরে শাহবাগ থানায় আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়।  শাহবাগ থানার অপর মামলায় অভিযোগ ছিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাসে আগুন দিতে উদ্যত হওয়া।

গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে পুলিশ বলছে, হয়রানির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেটা অসত্য। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছেন তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, যারা এসব করেছে, তাদের বড় অংশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং জামায়াত–শিবিরের কর্মী। তারা সব নুরের দলে এসে ভিড়েছে।

আরও বলেন, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে তারা যেভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলা যায়। আটক ব্যক্তিরা তারা ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানের নুরের নামও বলেছে। নুর শিবির নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন, এখানে আমরা কোনো প্রকার ছাড় দেব না।