বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়ার ছয় দিনের মাথায় তার করোনা ধরা পড়ে।
বুধবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি হাসপাতালের একটি কেবিনে ছিলেন। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় তাকে বিমান বাহিনীর একটি এয়ার এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চিকিৎসা চলবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু জানান, শরীরে জ্বর অনুভব করায় ফজলে হোসেন বাদশা বুধবার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। সন্ধ্যায় তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এরপর রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।
দেবু জানান, ফজলে হোসেন বাদশা শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তার পুরোপুরি সুস্থতার জন্য তিনি পার্টির পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার চিকিৎসায় ১৪ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. খলিলুর রহমানকে প্রধান করে এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। পরে মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে হাসপাতাল থেকে বের করা হয়।
ডা. সাইফুল বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাত ৯টার দিকে ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
ডা. খলিলুর রহমান বলেন, ভর্তির সময় তার অক্সিজেন স্যাচুরেশনের লেভেল ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করছিল। তার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। তবে তার ডায়াবেটিকসহ অন্য কিছু সমস্যা রয়েছে। তাই তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
দেশে করোনার গণটিকা কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনই ৭ ফেব্রুয়ারি ফজলে হোসেন বাদশা রামেক হাসপাতালে গিয়ে টিকা নেন। তিনিই রাজশাহীতে প্রথম টিকা গ্রহণ করে এর উদ্বোধন করেন। সেদিন তিনি সবাইকে টিকা নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। গত ৮ এপ্রিল তিনি করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেন। এর ছয়দিন পর তার শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ল।