করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে দেশে সরকারের ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ জারির দ্বিতীয় দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। এ দিন ছিল পবিত্র রমজান মাসেরও দ্বিতীয় দিন। কিন্তু পুরান ঢাকার চকবাজারে এবার বসেনি ঐতিহ্যবাহী ইফতারির পসরা। প্রতি বছর রোজায় পুরান ঢাকার বাহারি ইফতারির স্বাদ নিতে রাজধানীর পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করত। হরেক রকমের মুখরোচক খাবার নিয়ে বিক্রেতাদের হাঁকডাকে দুপুর থেকে সন্ধ্যার পরও মেতে থাকত পুরো এলাকা। চকবাজারের একাধিক বাসিন্দা বলেন, গত বছরও চকবাজারসহ পুরান ঢাকায় ইফতারির বাজার বসেনি। এতে করে পুরান ঢাকার ইফতারির বাজারের যে জৌলুশ ছিল, সেটি এখন হারাতে বসেছে।
সরেজমিনে গতকাল চকবাজারসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। ঐতিহ্যবাহী ইফতারির বাজার চকবাজারে দেখা যায় পুরো এলাকা জনশূন্য। কোনো দোকানপাট নেই। চারদিক ঘিরে রেখেছে পুলিশ। পুরান ঢাকার সংগঠক ও ‘ওল্ড ঢাকা পেইজের’ অ্যাডমিন আরফিন সানজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার ইফতারি মানেই ঐতিহ্য, যা আমরা দুই বছর যাবৎ হারাতে বসেছি। এমনিতেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্য হারানোর পথে। তবে সরকারের উচিত, থানাভিত্তিক প্রত্যেক এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইফতারির দোকানের জন্য অনুমোদন দেওয়া।’ কারণ পুরান ঢাকার স্থবির এ ইফতারির বাজার কেউই চান না।
এ ছাড়া ইসলামপুর, আরমানিটোলা, বংশাল, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়ার কোথাও গতকাল হাঁকডাক করে ইফতারি বিক্রি করতে দেখা যায়নি। তবে অলিগলিতে ছোট দোকানগুলোতে ইফতারি বেচাকেনা করতে দেখা গেছে।
নতুন ঢাকায় ইফতারির বড় বাজার বেইলি রোডেও আগে যেভাবে জমজমাট ইফতারি বেচাকেনা হতো, এবার তেমনটা দেখা যায়নি। সেখানকার ‘নবাবি ভোজ’, ‘বেইলি পিঠা ঘর’, ‘চিন চিন চায়নিজ’সহ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় ইফতারি বিক্রি করতে দেখা গেছে। কিন্তু বেচাকেনা আগের মতো নেই বললে জানালেন দোকানিরা।
বেইলি রোডে ইফতারি কিনতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. জাহিদ বলেন, আশপাশে তেমন কোনো দোকান পেলাম না ইফতারি কেনার। তাই বেইলি রোডে চলে এলাম।
‘নবাবি ভোজের’ পরিচালক কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘সব নির্দেশনা মেনে ইফতারি বেচাকেনা করছি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যাচ্ছে ক্রেতারা মানতে চাচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি সরকারে দেওয়া নির্দেশনা মানতে।’
বেইলি রোডের হোটেল ব্যবসায়ীরা সরকারি দেওয়া নির্দেশেনা মানছেন কি না, দেখতে এসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মেরীনা নাজনিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে যতজন ম্যাজিস্ট্রেট আছে, আমরা চেষ্টা করছি সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনা করেন। রেস্টুরেন্ট-হোটেল বাদে যেসব নিত্যপণ্যের দোকান ৩টার মধ্যে বন্ধ করার কথা, সেগুলো কিন্তু এখন সব বন্ধ আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন ফুটপাতে যারা ইফতারি বেচাকেনা করছে, আমরা এখন তাদের কিছু বলছি না।