অক্সিজেন সিলিন্ডার পিঠে বেঁধে মাকে নিয়ে বাইকে করে হাসপাতালে

অক্সিজেন সিলিন্ডার পিঠে বেঁধে মোটরসাইকেলে করে মাকে নিয়ে হাসপাতালে আসার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় করোনায় আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার পিঠে বেঁধে মোটরসাইকেলে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান।

ঝালকাঠি কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান রবিবার জানান, মায়ের অক্সিজেন দ্রুত নেমে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে ৮০ তে নেমে গেলে অ্যাম্বুলেন্স এমনকি অটো রিকশা বা কোনো থ্রি-হুইলারও পাচ্ছিলাম না।

তিনি বলেন, উপায় না দেখে নিজের পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার গামছা দিয়ে বেঁধে মোটরসাইকেলে মাকে নিয়ে এসে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। মার অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো।

এই ব্যাংক কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, তার মা রেহানা বেগম (৫৭) নলছিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গত ১০ এপ্রিল নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার নমুনা দিলেও রিপোর্ট এখনো তারা পাননি।

পরে গত ১৫ এপ্রিল আবার শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার নমুনার পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নমুনার ফল আসেনি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে মায়ের অক্সিজেন স্যাচুরেশন নামতে থাকায় গতকাল দুপুর আড়াইটায় নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির চেষ্টা করি। মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদি হাসান মাকে সেখানে না রেখে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যেতে বলেন। অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন না পেয়ে পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

রোগীর অবস্থা দেখে রাস্তায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ তাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আমার কাছে ঐ মুহূর্তে এর কোনো বিকল্প ছিল না উল্লেখ করে জিয়াউল হাসান আরও বলেন, মাকে বাঁচাতে যা করা দরকার আমি তাই করতে পেরেছি বলে আনন্দ হচ্ছে।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ইনচার্জ সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে রেহানা বেগমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তাকে অক্সিজেন ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।’