বিয়ের জন্য চাপ তাই ননিকাকে হত্যা করে প্রেমিক কনস্টেবল নিমাই

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিকা ননিকা রানী রায়কে খুন ও লাশ গুম করে প্রেমিক পুলিশ কনস্টেবল নিমাই চন্দ্র সরকার (৪৩)।

রবিবার ভোরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রাজশাহীর একটি টিম নাটোরের লালপুর থেকে ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামি নিমাইকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন মো. কবির আহম্মেদ (৩০), মো. সুমন আলী (৩৪) ও মো. আব্দুর রহমান ওরফে সঞ্জয় (২৫)।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার নিমাই চন্দ্র সরকার রাজশাহী রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। ননিকা রানী রায় এর সাথে তার ৬ থেকে ৭ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই কারণে ননিকা রানী আসামি নিমাইকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। পরে সে কৌশলে তার ভাড়া বাড়িতে ননিকা রানীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে।

পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউছুফ দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানাধীন সিটি হাটের ৩০০ গজ পশ্চিমে ইউনাইটেড কলেজের সামনে কালভার্টের নিচে কচুরিপানা যুক্ত পানিতে চালের ড্রামের মধ্যে অজ্ঞাতনামা একজন মহিলার অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বয়স আনুমানিক ২২ বছর । তার গলায় কালো ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে চাল রাখার প্লেন সিট ড্রামের মধ্যে ভরে ওই ব্রিজের কাছে পানিতে ফেলে দেয় ঘাতকেরা।

তিনি জানান, শাহমখদুম থানা-পুলিশ সংবাদ পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে শাহমখদুম থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তিনি জানান, পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদের নির্দেশে মরদেহ শনাক্তের জন্য পিবিআইয়ের একটি চৌকস টিম ঘটনাস্থল থেকে মৃতের আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করে।

মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর পিবিআই রাজশাহীর টিম পাবনা ও নাটোর জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল আসামি নিমাই চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুই আসামি কবির আহম্মেদ ও সুমন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ গুম করার কাজে বহনকারী মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয় এবং মাইক্রোবাসের চালক মো. আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের সঙ্গে কার কতটুকু সংশ্লিষ্টতা ছিল তা স্বীকার করেছে। আসামিদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।