অ্যান্টিবডির কাজ বুঝতে স্বেচ্ছা সংক্রমণ

নতুন করে করোনা-ঢেউ আছড়ে পড়েছে প্রায় অর্ধেক বিশ্বে। দ্বিতীয় দফায় করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করছে, অ্যান্টিবডি কতটা কার্যকরী এসব জানতে বছরব্যাপী ট্রায়াল শুরু হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। গবেষণাগারে কাজটি করবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকরা প্রত্যেকেই একবার করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এদের বয়স ১৮ থেকে ৩০। ট্রায়ালে তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে ফের করোনা সংক্রমণ ঘটানো হবে। দেখা হবে শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম বা রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা কীভাবে লড়ে। একে বলা হচ্ছে ‘চ্যালেঞ্জ ট্রায়াল’। পুরোপুরি চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন অংশগ্রহণকারীরা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষেধক বিশেষজ্ঞ হেলেন ম্যাকশেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রাকৃতিকভাবে যারা দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হচ্ছেন, তাদের বিষয়টি আলাদা। এ ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের ল্যাবে সংক্রমণ ঘটানোর পরে পুরো পর্বটি নজরে রাখা হবে। সংক্রমণ ঘটার পরে শরীরে কী কী প্রতিক্রিয়া ঘটে, সবটা দেখা হবে।’ এ মাসেই শুরু হচ্ছে ট্রায়ালের প্রথম পর্ব। প্রথমে দেখা হবে, সবচেয়ে কম কী পরিমাণ ভাইরাস সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তারপর সেই ভাইরাসের মাধ্যমে ৬৪ জন অংশগ্রহণকারীকে সংক্রমিত করা হবে। দেখা হবে শরীরে কী প্রতিক্রিয়া হয়। পরবর্তী দুই সপ্তাহ ২৪ ঘণ্টা নজরবন্দি রাখা হবে ওই অংশগ্রহণকারীদের। হাসপাতালের একটি বিশেষ অংশে আলাদা করে রাখা হবে তাদের। নানাবিধ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে; যেমন ফুসফুসে সিটি স্ক্যান, হার্টের এমআরআই স্ক্যান।

এখন প্রশ্ন, ইচ্ছাকৃতভাবে যে করোনা সংক্রমিত করা হচ্ছে, তাদের থেকে অন্য কেউ আক্রান্ত হবেন না? ট্রায়ালে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অংশগ্রহণকারীদের ভাইরাস-মুক্তির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে ছাড়া হবে। তার আগে নয়।

ম্যাকশেন বলেন, ‘এই ট্রায়াল করার অন্যতম কারণ, করোনা সংক্রমণের পর কত দিন শরীরে অ্যান্টিবডি কার্যকরী থাকে, তা পরীক্ষা করে দেখা। শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাজকর্ম একবার বুঝে ফেলা গেলে এবং দ্বিতীয় সংক্রমণ আটকানো গেলে, আরও কার্যকরী ভ্যাকসিন তৈরি করা যাবে। এ-ও বোঝা যাবে, কে সুরক্ষিত, কেন নয়।’