রাতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ সকালে উদ্ধার

পঞ্চগড়ে পুকুরের পানিতে নিখোঁজের পাঁচ ঘণ্টা পর হাসান আলী (৩২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

শনিবার মধ্যরাতে বাড়ির পাশের পুকুরে লাফ দিলে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত যুবকের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের নজিবউদ্দিনের ছেলে। পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাতে হাসান আলী তার স্ত্রী শারমিনা বেগমকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাছ দেখতে যায়। স্ত্রীকে জোর করে নিয়ে পুকুরে নামেন হাসান আলী। এ সময় স্ত্রী কোনমতে পুকুর হতে উঠে আসে। হাসান আলী সাঁতার না জানায় তিনি আর পুকুর থেকে উঠে আসতে পারেনি। পানিতেই নিখোঁজ হয়ে যান হাসান আলী। কারণ পুকুরের গভীরতা অনেক বেশি। পরে স্ত্রী শারমিনা বেগম আশপাশের প্রতিবেশীদের জানান।

খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ও  ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে রাতেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার তৎপরতা চালায়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার করতে পারেনি তারা।

এদিকে, ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ ফিরে যাওয়ার পর স্থানীয়রা চারটি শ্যালোমেশিন দিয়ে পুকুরের পানি উত্তোলন শুরু করে। একপর্যায়ে পুকুরের পানি কমতে শুরু করে। 

পরে রবিবার সকাল ছয়টার দিকে স্থানীয় যুবকেরা নেমে হাসান আলীর মরদেহ পানি থেকে উদ্ধার করে।

নিহতের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রথমে আমরা নিজেই পানিতে নেমে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলাম। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই পানিতে নেমেছিল। কিন্তু হাসান আলী পানিতেই নিখোঁজ হয়ে যায়। আমার ভাইয়ের মানসিক সমস্যা এবং মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল।’

তবে কি কারণে পুকুরে লাফ দিয়েছিল জানাতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতামাস হুসাইন লেলিন বলেন, রাত ১টার দিকে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পুকুরটির গভীরতা বেশি হওয়ায় মরদেহ উদ্ধারে সময় লেগেছে। হাসান আলীর কিছুটা মানসিক সমস্যা ছিল। এ কারণেই স্ত্রীসহ পানিতে লাফ দিয়েছিল। নিখোঁজের পাঁচ ঘণ্টায় পুকুরের পানি উত্তোলন করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।’