এক নজরে অস্কারে যত চমক

নানা কারণে এবারের একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস ঐতিহাসিক। করোনা পরিস্থিতিতে আগের আসরের ৪৪১ দিন পর অনুষ্ঠিত হলো ৯৩তম অস্কার। পুরস্কারের তালিকায় ছিল নানান চমক ও বৈচিত্র্যে ঠাসা।

একাধিক পুরস্কার পেয়ে যেমন বাজিমাত করেছে ‘নোম্যাডল্যান্ড’, আবার আলোচনায় থাকা ‘দ্য ট্রায়াল অব শিকাগো সেভেন’ কোনো পুরস্কারই জেতেনি।

এবার সেরা ছবির পুরস্কার ঘোষণার পর জানানো হয় সেরা অভিনেতার নাম। ধারণা করা হয়েছিল প্রয়াত চাডউইক বোজম্যানের সম্মানে এ অদলবদল। কিন্তু সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেলেন অ্যান্থনি হপকিন্স, ‘দ্য ফাদার’ ছবির জন্য। সবচেয়ে বেশি বয়সে (৮৩ বছর) অস্কার পাওয়ার রেকর্ড এটি। তিন দশক আগে তিনি ‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’ ছবির একই পুরস্কার পান।

অভিনেত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো অস্কার জিতলেন ফ্রান্সেস ম্যাকডরম্যান্ড, ছবি ‘নোম্যাডল্যান্ড’। একই ছবি পেয়েছে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার। তাই প্রযোজক হিসেবে আরেকটি পুরস্কারের অংশীদার ম্যাকডরম্যান্ড।

‘নোম্যাডল্যান্ড’-এর জন্য সেরা পরিচালক হয়েছেন ক্লোয়ি ঝাও। এ নিয়ে দ্বিতীয় কোনো নারী এ বিভাগে অস্কার পেল। এশিয়ান নারী পরিচালক হিসেবে এটি প্রথম অস্কার।

ব্রিটিশ কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা ড্যানিয়েল কুলাইয়া ‘জুদাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মেসিয়াহ’ ছবির জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার জিতেন। সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হয়েছেন ‘মিনারি’র ইয়া-জাং উন। এর মাধ্যমে প্রথমবার কোনো কোরিয়ান অভিনেত্রীর হাতে উঠলো অস্কার।

এবার সাতজন অশ্বেতাঙ্গ অভিনয়শিল্পী মনোনয়ন পেয়েছেন, জিতেছেন দুজন। এছাড়া আগের বছরের তুলনায় বেশি নারী মনোনয়ন পেয়েছেন।

বড় সব স্টুডিওকে পেছনে ফেলে সবোর্চ্চ সাতটি পুরস্কার জিতেছে নেটফ্লিক্স প্রযোজিত ছবি, পেয়েছিল ৩৬টি মনোনয়ন।

করোনার কারণে সীমিত পরিসারে লস অ্যাঞ্জেলসের ডলবি থিয়েটার ও ইউনিয়ন স্টেশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের অস্কার। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ছিল ভীষণ কড়াকড়ি।

এবার এক নজরে পুরস্কারের পুরো তালিকা—

সেরা ছবি: নোম্যাডল্যান্ড, সেরা পরিচালক: ক্লোয়ি ঝাও (নোম্যাডল্যান্ড), সেরা অভিনেতা: অ্যান্থনি হপকিন্স (দ্য ফাদার), সেরা অভিনেত্রী: ফ্রান্সেস ম্যাকডরম্যান্ড (নোম্যাডল্যান্ড), সেরা পার্শ্ব-অভিনেতা: ড্যানিয়েল কালুইয়া (জুদাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মেসিয়াহ) ও সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী: ইয়া-জাং উন (মিনারি)।

সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র: ‌অ্যানাদার রাউন্ড (ডেনমার্ক), সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্য: দ্য ফাদার, সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য: প্রমিজিং ইয়াং ওম্যান, সেরা প্রামাণ্যচিত্র: মাই অক্টোপাস টিচার, সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র: কলেট, সেরা অ্যানিমেটেড ছবি: সৌল, সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড ছবি: ইফ অ্যানিথিং হ্যাপেনস আই লাভ ইউ ও সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: টু ডিস্ট্যান্ট স্ট্রেঞ্জার্স।

সেরা চিত্রগ্রহণ: ম্যাঙ্ক, সেরা সম্পাদনা: সাউন্ড অব মেটাল, সেরা মৌলিক গান: ফাইট ফর ইউ (জুডাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মেসায়া), সেরা মৌলিক সুর: সৌল, সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন: ম্যাঙ্ক, সেরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস: টেনেট, সেরা শব্দ: সাউন্ড অব মেটাল, সেরা পোশাক পরিকল্পনা: মা রেইনি’স ব্ল্যাক বটম, সেরা রূপ ও চুলসজ্জা: মা রেইনি’স ব্ল্যাক বটম ও হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড: টাইলার পেরি।