আত্মগোপনে গিয়ে স্ত্রীর কাছে লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি!

পঞ্চগড়ের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান (২৯)। পেশায় পোল্টি মুরগি ব্যবসায়ী এই যুবক ব্যক্তিগতভাবে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ধারদেনায় পড়েছিলেন।

গত ১২ এপ্রিল নিজেই আত্মগোপনে গিয়ে একটি অপহরণ নাটক সাজান। স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করেন এক লাখ টাকা।

এই ঘটনায় থানায় নিখোঁজ ডায়েরির পর হাবিবুরকে টাঙ্গাইলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করে সোমবার রাতে পরিবারের জিম্মায় দেয় পুলিশ।

হা্বিবুর পৌরসভার পূর্ব জালাসি এলাকার লেবু মিঞার ছেলে।

পুলিশ ও তার পরিবার জানায়, হাবিবুর রহমান গত ১২ এপ্রিল দুপুরের পর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। সাথে থাকা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই তার পরিবার তাকে পরিচিত সব জায়গায় খোঁজ নেয়, বার বার তার মোবাইলে কল করে কিন্তু মোবাইলটি সবসময় বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘদিনেও তার সন্ধান পায়নি তার পরিবার।

এদিকে, গত ১৬ এপ্রিল হাবিবুর তার স্ত্রী আছিয়া বেগমের কাছে নতুন একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে ফোন করে বলেন যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এখান থেকে মুক্তি পেতে এক লাখ টাকা দিতে হবে।

মুক্তিপণ দাবির পর হাবিবুরের বাবা লেবু মিঞা গত ১৮ এপ্রিল পঞ্চগড় সদর থানায় একটি নিখোঁজের ডায়েরি করেন।

থানায় ডায়েরির পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। একই সাথে তার স্ত্রীর কাছে আবারও হাবিবুরের ফোন কল আসলে পুলিশকে তাৎক্ষণিক জানাতে বলে। এবার পুলিশ তার নতুন মোবাইল নম্বরটি নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে। পরবর্তীতে কল করলে পুলিশ তার স্ত্রীকে এক লাখ টাকা দেওয়ার জন্য স্বীকার করার নির্দেশ দেয়।

সেই মোতাবেক অছিয়া বেগম গত ২২ এপ্রিল  হাবিবুরের ফোন পাওয়ার পর এক লাখ টাকা তার হাতে তুলে দিতে রাজি হন।

এরপর হাবিবুর গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে টাকা নিয়ে আসতে বলেন। হাবিবুরের কথামতে আছিয়া বেগম ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ওই তারিখে পৌঁছে যায়। এ সময় পুলিশ তার পিছু নেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হাবিবুর তার স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, তুমি পুলিশের সাহায্য নিয়েছো।

সেদিন আছিয়া বেগম দুপুর থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলে পরে মোবাইল বন্ধ রেখে পালিয়ে যান হাবিবুর। এরপর পুলিশ আবারও হাবিবুরের নতুন ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটির অবস্থান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শনাক্ত করে।

পুলিশ গত ২৪ এপ্রিল শনিবার হাবিবুরের অবস্থান নিশ্চিত হয় যে, তিনি টাঙ্গাইল সদর থানার আদালতপাড়ায় অবস্থান করছেন।

পরে ২৫ এপ্রিল মধ্যরাতে টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তাজমহল আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ হতে উদ্ধার করে রবিবার রাতে পঞ্চগড় সদর থানায় নিয়ে আসে।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আবু আককাছ আহমেদ বলেন, ‘হাবিবুর নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে হাবিবুর বলেছে তার ব্যক্তিগত প্রায় লক্ষাধিক টাকা ধারদেনা হয়েছে। এ জন্যই সে আত্মগোপনে গিয়ে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণের নাটক সাজিয়ে টাকা দাবি করেছে। তার পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় উদ্ধারের পর সোমবার রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের পর হাবিবুরকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’