বিশ্বের উষ্ণতম চার স্থান

পৃথিবীর উষ্ণতম স্থানের তালিকায় আছে সাহারা মরুভূমিসহ আরও কয়েকটি এলাকা। এসব জায়গার তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি। পুরো বছরে একবারও বৃষ্টির দেখা মেলে না। এসব স্থানের জীববৈচিত্র্যও অভিযোজিত হয়েছে উষ্ণতা অনুসারে। বিশ্বের উষ্ণতম চার স্থান নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

ডেথ ভ্যালি, ক্যালিফোর্নিয়া

বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ জায়গার কথা বললে সে তালিকায় সবার আগে নাম আসে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালির নাম। ডেথ ভ্যালি ১৪০ মাইল বিস্তীর্ণ এক মরুভূমি। মাঝে মাঝে আছে বালিয়াড়ি (বালিপূর্ণ উচ্চ ভূমি) আর গভীর খাদ। পার্শ্ববর্তী রাজ্য নেভাডা পর্যন্ত বিস্তৃত এই মরুভূমি। চারদিকে উঁচু এবং খাড়া পাহাড় দিয়ে ঘেরা। এখানে গরম এতটাই বেশি যে শরীরে যে ঘাম হচ্ছে সেটিও সহজে বোঝা যায় না। ঘামে কাপড় ভিজে যাচ্ছে সেটি বুঝতে বুঝতেই শরীরে চামড়ার ঘাম শুকিয়ে যায়। প্রথমদিকে যারা এখানে থাকতে আসেন তাদের জন্য মানিয়ে নিতে কিছুটা কষ্ট হয়। বিশ্বের উষ্ণতম এ জায়গাতেও কয়েকশ মানুষ বসবাস করে। গ্রীষ্মের সময় ডেথ ভ্যালির জনগণের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতরেই কাটে। তবে অনেকে পাহাড়ের দিকে চলে যায়, যেখানে তাপমাত্রা একটু কম। ডেথ ভ্যালির লোকজনের বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় ঘর ঠা-া থাকে। তবে বিদ্যুৎ না থাকলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড গরমে সবাই সারাক্ষণ এয়ারকন্ডিশন চালিয়ে ঘর ঠা-া রাখার চেষ্টা করে বলে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়। ডেথ ভ্যালির বেশির ভাগ মানুষ থাকেন ফার্নেস ক্রিক ফার্মে। ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট ডেথ ভ্যালির তাপমাত্রা মাপা হয় ৫৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই জায়গাটা সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ২৮০ ফুট নিচু একটা অববাহিকার মতো। ডেথ ভ্যালির এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনা অনেক পুরনো। ১৯১৩ সালে এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাপা হয়েছিল ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরমের সময় ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এখানে খুব সাধারণ বিষয়।

পানির অভাব ডেথ ভ্যালিকে মরুভূমি বানালেও জায়গাটি মোটেও প্রাণহীন নয়। কম পানিতে বাঁচতে পারে এমন গাছ এখানে জন্মায়। ক্রেওসোট নামে মাঝারি আকারের চিরসবুজ গাছের পাতাগুলো বাষ্প রোধ করে জল সংরক্ষণ করে। গোল্ডেন ব্যারেল ক্যাকটাস নামের গাছগুলো স্পঞ্জের মতো কাজ করে এখানে। বৃষ্টির সময় উদ্ভিদটি সেই পানি থেকে আর্দ্রতা নিয়ে নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখে। অথচ এই এলাকায় বৃষ্টি হয় মাত্র ৫ সেন্টিমিটারের মতো। কখনো কখনো এখানে পুরো বছরেও বৃষ্টির দেখা মেলে না। ডেথ ভ্যালিতে মরীচিকার মতো জলাশয় দেখা যায়, যা মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ত। প্রতিকূল এই পরিবেশে দিনের খরতাপে প্রাণীদের টিকে থাকাই বেশ কঠিন। তবে মানুষের জন্য প্রতিকূল এলাকায়ও অনেক প্রাণীর জন্য সেসব জায়গা অনুকূল হতে পারে। ডেথ ভ্যালিতে লিজার্ড নামে এক ধরনের গিরগিটি আছে, যেগুলো দিনের বেলায় এখানে অবলীলায় ঘুরে বেড়ায়। দিনের বেলার তাপমাত্রায় যেকোনো প্রাণীর পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। রাতের বেলা অবশ্য প্রাণীদের জন্য ডেথ ভ্যালি স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠে। ৫১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী (লম্বা শিংওয়ালা হরিণ, সিংহ ইত্যাদি), ৩৬ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী (টিকটিকি, সাপ ইত্যাদি), উভচর প্রাণীসহ প্রায় ৩০০ প্রজাতি পাখির বসবাস। সাধারণত দিনের বেলা এরা গাছগাছালির নিচে থাকে। রাত হলে বেরিয়ে আসে। বছরের কোনো কোনো সময় ডেথ ভ্যালি ৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে যায়। সে সময় রাতের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে আসে।

ডেথ ভ্যালির নামকরণের পেছনে রয়েছে এক ইতিহাস। কথিত আছে, ১৮৪৯ সালে একদল স্বর্ণ সন্ধানী ডেথ ভ্যালির মরুভূমি পার হয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বর্ণের সন্ধানে যেতে চেয়েছিল। পথিমধ্যে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে এক সহযাত্রীর মৃত্যু ঘটে এবং বাকিরা অনেক কষ্টে মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে ফিরে আসে। তাদের একজন মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে ফিরে আসার সময় পিছে তাকিয়ে বলে, ‘বিদায়, মৃত্যু উপত্যকা।’ সেখান থেকেই এর নামকরণ করা হয় মৃত্যু উপত্যকা (ডেথ ভ্যালি)।

লুত মরুভূমি, ইরান

তাপমাত্রা, বৃষ্টি কম সব মিলিয়ে মরুভূমিগুলো উষ্ণতার এক অনন্য উদাহরণ। এ তালিকায় ইরানের লুত মরুভূমির নাম উল্লেখযোগ্য। পৃথিবীর তাপমাত্রার সর্বোচ্চ হিসাবে নাসা থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে ইরানের লুত মরুভূমি বিশ্বের অন্যতম উষ্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। ২০০৫ সালে লুত মরুভূমিতে ৭০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বিশালাকার লবণ মরুভূমিটি বিশ্বের ২৭তম বৃহত্তম মরুভূমি। যা ৫১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার (২০ হাজার বর্গমাইল) জায়গাজুড়ে অবস্থিত। ইরানের লুত মরুভূমির উষ্ণতার জন্য একে বলা হয় ‘গ্যান্ডম বারয়ান’। এর পার্সিয়ান অর্থ ‘টোস্টেড হুইট’ (গমের টোস্ট)। বলা হয়, এই মরুভূমিতে কয়েকটি গম রেখে দিলে সূর্যের তাপে সেটিও পুড়ে টোস্ট হয়ে যায়।

ফারসি ‘লুত’ শব্দের অর্থ পানি ও গাছপালাবিহীন খালি জায়গা। মরুভূমিটি ইরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। মরুর পূর্ব অংশ লবণাক্ত ফ্ল্যাট আবৃত নিম্ন মালভূমি হিসেবে দেখায়। একে লবণ মরুভূমিও বলা হয়। এর আয়তন ১ লাখ ৭৫ হাজার বর্গকিলোমিটার। লুত মরুভূমি প্রায় ২০০ মাইল এলাকা বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক ও উষ্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। এ অঞ্চলে জীবনধারণের জন্য এত বিরূপ পরিস্থিতি রয়েছে যে, এখানে কেউ বসবাস করতে পারে না। এমনকি ব্যাকটেরিয়াও এ অঞ্চলে বাস করতে পারে না। বছরের শুধু জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই শুষ্ক অঞ্চলটিতে প্রচণ্ড বাতাস প্রবাহিত হয়। লুত মরুভূমির প্রধান প্রধান আকর্ষণীয় স্থানগুলো হলো গ্যান্ডম বেরিয়ান, শাহদাদ কালুত এবং রিগ ইয়েলান। এ ছাড়া মরুভূমিতে পোকামাকড়, সরীসৃপ এবং মরুভূমির শিয়ালসহ বৈচিত্র্যরকমের প্রাণীর বসবাস রয়েছে। এটি ২০১৬ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধিত হয়।

২০১৫ সালে প্রথম একটি সিক্রেট কম্পাস এক্সপেডিশন টিম লুত মরুভূমিতে পায়ে হেঁটে যাত্রা করে। ২০১৬ সালে তাদের নিয়ে ফিচার করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি। এই এক্সপেডিশন টিম মরুভূমির পথ পার হয়ে পৌঁছেছিলেন ৭ম থেকে ১১ শতক পর্যন্ত ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য বিখ্যাত সিল্করোডে। কথিত আছে, ১২৭১ সালে বিখ্যাত ভ্রমণকারী মার্কো পোলোও এই মরুভূমিতে এসেছিলেন।

সাহারা মরুভূমি, উত্তর আফ্রিকা

মাইলের পর মাইল জনবিহীন, উদ্ভিদ ও পানিশূন্য প্রান্তরে উটের পিঠে চড়ে বেড়ানো বেদুইনের দৃশ্য মনে এলেই সবার আগে ভাবনায় আসে সাহারা মরুভূমির কথা। গরম আর প্রচণ্ড তাপমাত্রার সঙ্গে সাহারার সম্পর্ক বেশ গভীর। প্রচণ্ড গরমে দিশেহারা হলে সবার আগে তুলনায় আসে এই সাহারার কথাই। উষ্ণ মরুভূমির হিসাবে সাহারা পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি। প্রায় ৩৬ লাখ বর্গমাইল বা ৯২ লাখ বর্গ কিলোমিটারের এই বিশাল মরুভূমি আয়তনে মোটামুটি চীন কিংবা আমেরিকার সমান। উত্তর আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি মিসর, সুদান, সাদ, লিবিয়া, নাইজার, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, মালি, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, পশ্চিম সাহারা মোট এগারোটি দেশে বিস্তৃত।

সাহারা মরুভূমি একসময় উর্বর ভূমি ছিল। আজ থেকে প্রায় ১০ হাজার বছর আগে হঠাৎ জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের দরুন পুরো সাহারা অঞ্চল স্যাভানায় পরিণত হয়েছিল, যা স্থায়ী হয়েছিল প্রায় পাঁচ হাজার বছর। তারপর বর্তমান মরুভূমি রূপের আবির্ভাব ঘটা শুরু হয় সাহারায়। পৃথিবী তার ঘূর্ণন পথে ২৩.৪৪ ডিগ্রি কোণে হেলে আছে। তবে এই কোণের মান সব সময় একই থাকে না। ৪১,০০০ বছর পর্যায়কালে ২২.১ থেকে ২৪.৫ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করে। মূলত পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ সরে যাওয়ার ফলেই সাহারা অঞ্চলে মরুকরণের সূচনা হয়েছিল। ফলে আজ থেকে চার হাজার বছর আগে স্যাভানা থেকে মরুভূমিতে পরিণত হয় সাহারা। পরিবেশবিদরা তাই ধারণা করছেন অদূর ভবিষ্যতে বদলে যাবে সাহারার বর্তমান চিত্র। হয়তো আরও প্রসারিত হতে পারে সাহারা কিংবা আবারও সবুজ জেগে উঠতে পারে এই মরুভূমিতে। তবে সন্দেহ নেই বর্তমানে ক্রমেই বেড়ে চলেছে সাহারার তাপমাত্রা। ১৯৯২ সালে লিবিয়ার সাহারা অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মানুষের জানা মতে আজ অবধি এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ। সাহারা মরুভূমি অত্যন্ত উষ্ণ। বলা হয়, পৃথিবীর শুষ্কতম স্থান হলো সাহারা। এর প্রায় অর্ধেক অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২ সেন্টিমিটারের নিচে। এমনকি কিছু এলাকায় পুরো বছরে বৃষ্টির চিহ্নও দেখা যায় না। বাকি অঞ্চলগুলোয় অবশ্য গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০ সেন্টিমিটারের ওপরে। সাহারায় বালিঝড় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, বজ্রপাতের ঘটনাও আছে। মরুভূমিতে বৃষ্টিপাতের সময় আকাশ বাদামি-কালো মেঘে ঢেকে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই বজ্রপাতসহ প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়।

দিনের বেলা সাহারায় তাপমাত্রা গড়ে ৪৬ থেকে ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে, কিন্তু রাতের বেলা কখনো কখনো তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ৬ ডিগ্রি অবধি নেমে যায়। মজার ব্যাপার হলো সাহারায় কিছু কিছু স্থানে, বিশেষ করে পাহাড়ের চূড়াগুলোয়, শীতকালে তুষারপাতও দেখা যায়।

জীববৈচিত্র্য তুলনামূলকভাবে কম হলেও বিচিত্র রকমের প্রাণীর দেখা মেলে এই মরুভূমিতে। এরা সবাই সাহারার কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত হয়েছে। সাহারার উষ্ণ মরুভূমিতে মানুষের জীবন অনেকটাই উটনির্ভর। মরুভূমির অ্যাডাক্স নামের হরিণজাতীয় প্রাণী প্রায় বছরখানেক পানি পান না করে বেঁচে থাকতে পারে। এ ছাড়া রয়েছে শিংওয়ালা ভাইপার কুমির ও বিভিন্ন রকমের মরুভূমির সরীসৃপ, শিয়াল ও হরিণ। এমনকি চিতা বাঘেরও দেখা মেলে সাহারায়।

ডালোল, ইথিওপিয়া

আফ্রিকার আরিত্রিয়া ও জিবুতির গায়ে লেগে থাকা ইথিওপিয়ার অংশে আছে ‘আফার ট্রায়াঙ্গ ল’ নামে সুবিশাল এক নিম্নভূমি। এর উত্তরে আছে বাটির মতো দেখতে ‘ডানাকিল ডিপ্রেশন’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪১৫ ফুট নিচে থাকা এই স্থানটি পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণতম স্থান। যেখানে রাত ও দিনের তাপমাত্রার খুব বেশি হেরফের হয় না। সারা বছর তাপমাত্রা থাকে ৩৫-৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের আশপাশে। এর উত্তরে আছে জীবন্ত আগ্নেয়গিরি ‘এর্টা আলে’। গোটা ডানাকিল ডিপ্রেশনটাই লবণ দিয়ে তৈরি এক মরুভূমি। এই মরুভূমিরই দুর্গম অংশে বিস্ময়কর সৌন্দর্য নিয়ে অবস্থান করছে ‘ডালোল’ নামে একটি গ্রাম। একসময় জীবিত এই গ্রামটি বর্তমানে রয়েছে বিধ্বস্ত অবস্থায়। অতীতে ডালোলে ছিল পটাশের খনি। সেই খনিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল এই গ্রাম। পটাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য ইংরেজরা রেললাইনও নিয়ে এসেছিল এই গ্রামে।

বিষণœ ডালোলে এখনো দাঁড়িয়ে আছে পাথুরে লবণের ব্লক দিয়ে তৈরি বেশ কিছু পরিত্যক্ত বাড়িঘর। ডালোল গ্রাম থেকে আরও উত্তরে গেলেই দেখা মিলবে এর্টা আলে নামের আগ্নেয়গিরিটির। পাহাড়ের ওপারেই ছোট ছোট অসংখ্য টিলা। এসব টিলার ওপরে সাদা, সবুজ, হলুদ, বাসন্তী, সোনালি, কমলা, লাল, বেগুনি, গেরুয়া রঙের আবির মেখে যেন শুয়ে আছে অতিকায় এক জলাভূমি। এই জলাভূমির মধ্যে রয়েছে রঙিন ছোট ছোট পুকুর। পুকুরগুলোর পানির রং কোথাও সবুজ, কোথাও হালকা নীল, কোথাও বা বাদামি। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে এই পানিগুলো সব সময় টগবগ করে ফুটতে থাকে। কারণ এই পানিতে অ্যাসিডের মাত্রা অনেক বেশি। পানি থেকেই উঠে আসছে বাষ্প। এখানকার তাপমাত্রা ১০৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি। পানিতে অক্সিজেন না থাকায় এই জলাভূমিতে প্রাণীর অস্তিত্ব নেই।

জলাভূমির আশপাশে দেখা মিলবে অদ্ভুত আকৃতির কিছু স্তম্ভের, যেগুলোর চূড়া থেকে তরলাকারে বেরিয়ে আসছে ফুটন্ত সালফার। নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত কার্বন-ডাই অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, নাইট্রোজেন, সালফার-ডাই অক্সাইড, হাইড্রোজেন ও আর্গন গ্যাস। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে আছে লবণ দিয়ে তৈরি হওয়া রঙিন পিলার, ফুলের মতো দেখতে স্ফটিক, লবণের ডিম্বাকৃতির ডেলা, মুক্তোর মতো দেখতে গোলক।

খনিজ পদার্থে পূর্ণ আগ্নেয় জলাভূমিতে আছে জিপসাম, ক্যালসিয়াম অ্যানহাইড্রাইট, সিলভাইট, কার্নালাইট ও বিভিন্ন রঙের আয়রন অক্সাইড। প্রতি লিটার পানিতে প্রায় ছাব্বিশ গ্রাম আয়রন অক্সাইড আছে। এর কারণেই মূলত জলাভূমির পানি রঙিন হয়।