ছয় বছরের জন্য নিষিদ্ধ সাবেক লঙ্কান পেসার জয়সা

আইসিসি’র দুর্নীতি-বিরোধী আইন ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ৬ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক পেসার নুয়ান জয়সা। নিষিদ্ধ হওয়ার তারিখ গোনা হবে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে, এই অপরাধের জন্য যখন তাকে প্রথমবার অস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।

আইসিসি এক মিডিয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জয়সার বিরুদ্ধে তিনটি অপরাধে আর্টিকেল ২.১.১, ২.১.৪ ও ২.৪.৪ অনুচ্ছেদে অভিযোগ আনা হয়। এই তিনটি আইন হলো, আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফল-আচরণ ভুলভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ম্যাচ পাতাতে উৎসাহিত করা এবং আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিটকে অনুসন্ধানে অসহযোগিতা করা।

৪২ বছর বয়সী সাবেক পেসারের বিরুদ্ধে টি-টেন লিগে আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) আইন ভঙ্গের অভিযোগে ইসিবির দুর্নীতি-বিরোধী আইনেও অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলা এখন চলমান।

গত বছরের নভেম্বরে ইন্ডিপেনডেন্ট ট্রাইব্যুনালে শ্রীলঙ্কার হয়ে ১২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা জয়সার বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি-বিরোধী আইন ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর আগে ২০১৮ সালে এই অপরাধে অভিযুক্ত হন। জয়সা শ্রীলঙ্কার জার্সিতে ৯৫টি টেস্ট ৩০টি ওয়ানডে খেল নিয়েছেন ১৭২ উইকেট।.

জয়সার ম্যাচ পাতানোর অভিযোগের মধ্যে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নামও। পুরো রায়ে আইসিসি জানায়, জয়সা ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন শ্রীলঙ্কার বোলিং কোচ থাকাকালীন। ২০১৭ সালে কলম্বোয় একজন সন্দেহজনক ভারতীয়র সঙ্গে পরিচয় হয় তার। উভয়ের কিছু কথোপকথনের পর সাবেক লঙ্কান পেসার ওই ব্যক্তির সম্পর্কে অবগত হন। আইসিসি তাদের নথিতে ভারতীয় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে উল্লেখ করেছেন ‘জনাব ডব্লিউ’ নামে। তিনি ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মিস্টার ডব্লিউ বোর্ডে জয়সাকে চেয়েছিলেন কারণ, কোচ হিসেবে তিনি খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানবেন এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সক্ষম হবেন।  

জনাব ডব্লিউ’র অনুরোধে, জয়সা ২০১৭ সালে একজন খেলোয়াড়ের (খেলোয়াড়টির নাম উল্লেখ না করে সাংকেতিকভাবে তাকে খেলোয়াড়-এ হিসেবে রায়ে উল্লেখ করেছে আইসিসি) কাছে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাংলাদেশ/জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই সময়ের আসন্ন সিরিজে ম্যাচ পাতাতে পারবেন কিনা, এক ওভারে ১২-১৫ রান দিতে রাজি হবেন কিনা?

জয়সা ওই খেলোয়াড়কে (খেলোয়াড়-এ) জানান, ওই কাজ যদি তিনি করতে পারেন তবে ভালো অর্থ কামাই করতে পারবে। তবে খেলোয়াড়-এ সেই প্রস্তাব তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করেন এবং জয়সাকে জানান যে, তিনি এতে রাজি নন।