সার্ডিনিয়া উপকূলের মনোরম এক দ্বীপে তিন দশকের বেশি কাটিয়ে ইতালির ‘রবিনসন ক্রুসো’ হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলেন মুরো মরান্ডি। কিন্তু এখন বুদেলি নামের ক্ষুদে দ্বীপটি ছাড়তে হচ্ছে তাকে।
সিএনএন জানায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্রমাগত হুমকির মুখে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন ৮১ বছরের মুরো।
১৯৮৯ সাল থেকে এ দ্বীপে বসবাস করছিলেন তিনি। রবিবার ফেইসবুকে লেখেন, তিনি চলে যাচ্ছেন। আশা করছেন গত ৩২ বছর ধরে যেভাবে রেখেছিলেন বুদেলি সেভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
ইতালি থেকে পলিনেশিয়া যাওয়ার পথে সাবেক শিক্ষক মুরো গোলাপী এ দ্বীপের প্রেমে পড়ে যান। সেই থেকে আছেন নীল-সবুজ প্রকৃতির কোলে।
তিনি জানিয়েছিলেন, দ্বীপে পা রাখার কিছুদিন পরই সাবেক তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। কিন্তু ২০১৫ সালে বুদেলির মালিকানার লা মাডদালেনার ন্যাশনাল পার্কের হাতে গেলে মুরো কাজ হারান। এরপর থেকে উদ্যানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ঝামেলার শুরু। কর্তৃপক্ষের মতে, এখানে মুরোর থাকার আইনি কোনো অধিকার নেই।
গত বছর ইতালিতে ভ্রমণকালে জানান, দ্বীপের থাকার জন্য যা যা করার দরকার সবই করবেন তিনি।
আরও জানান, দ্বীপের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এত দিন সৈকতের পরিচ্ছন্নতায় কাজ করেছেন তিনি।
মুরো মরান্ডি এ দ্বীপে থাকার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থন পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে অনলাইনে এক পিটিশনে তার পক্ষে ৭০ হাজারের বেশি স্বাক্ষর পড়েছে।
এ দিকে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে উদ্যান কর্তৃপক্ষ মুরো মরান্ডির কুঁড়েঘরকে অবৈধ স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে। সঙ্গে জানানো হয়, কেউ মুরোকে এখান থেকে তাড়াতে চায় না, কিন্তু এখানে থাকার মতো তার কোনো পরিচয় নেই। ভবিষ্যতে কোনো তত্ত্বাবধায়ক দরকার হলে তার কথা ভাবা হবে।