চিকিৎসক-নার্সদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছবি ভাইরাল

হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে চিকিৎসক-নার্সদের তোলা সাম্প্রতিক কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে সব ছবির মধ্যে একটি ছবি সবার নজর কেড়েছে।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে হলুদ পোশাকে হুইল চেয়ারে বসা রয়েছেন হাস্যোজ্জ্বল খালেদা জিয়া। আর তার পাশে হাঁটু গেঁড়ে বসে আছেন এক নারী। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী বলে জানা গেছে।

ওই স্বাস্থ্যকর্মীর মাথায় পরম মমতায় হাত রেখে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

করোনা আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসনকে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই ছবিগুলো তোলা হয়েছে।

জানা যায়, এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে কাছে পেয়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের অনেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলে খালেদা জিয়াও স্বাচ্ছন্দ্যে সাড়া দেন।

এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করোনা জটিলতা নিয়ে ‘ভয় কেটে গেছে’ বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা।

তার আর্থারাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

করোনা পরবর্তী জটিলতা মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্য তার মেডিকেল টিমের সদস্য ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিটি স্ক্যান ছাড়া যেসব পরীক্ষা বাসায় রেখে সম্ভব নয়, ওই সব পরীক্ষা এভারকেয়ার হাসপাতালে করানো হয়েছে।

বর্তমানে হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

নিয়মিত চেক-আপের অংশ হিসেবে তার বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ সব পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে তার চিকিৎসার করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ডা. জাহিদ বলেন, চেয়ারপারসনের করোনা নিয়ে যে ভয় ছিল, সেই ভয় কেটে গেছে। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন তাকে হাসপাতালে নাকি বাসায় চিকিৎসা দেওয়া হবে।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ আসে। দ্বিতীয় দফায় করোনার নমুনা জমা দেওয়ার পর ২৫ এপ্রিলের ফলাফলও পজিটিভ আসে। তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো বলেন জানান ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এফএম সিদ্দিকী।