২০১৯ সালের আগস্টে কোচ হয়ে এসেছিলেন রাসেল ডমিঙ্গো। প্রাথমিকভাবে দু’বছরের জন্য চুক্তি তার। বাংলাদেশ দল ভালো করলে মেয়াদ আরও বাড়বে। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম হার থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত টেস্টে উন্নতির ছাপ নেই বাংলাদেশের। তাই শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে ছিলেন চাপে। চাকরি হারানোর চাপ কিছুটা কমেছে দল প্রথম টেস্টে ড্র করায়। কিন্তু ডমিঙ্গো এই ড্র নিয়ে আত্মতুষ্ট হতে চান না। তার দৃষ্টি আরও সামনে। দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি না হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তার।
গতকাল দ্বিতীয় টেস্টের ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুমিনুল হকের পরিবর্তে এসেছিলেন তিনি। প্রথম টেস্ট ড্রয়ে ‘সন্তুষ্ট’ কি না জানতে চাইলে ভিন্ন মত জানালেন এই প্রোটিয়া। এই ড্র’কে সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে হতাশ তিনি। এই সিরিজের আগে সাত টেস্টের ৬টিতে হার। তবুও মানসিকতা বদলের চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। জানালেন তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছেন। ইতিমধ্যে দলের আবহ বুঝতে পেরেছেন। এবার এটাকে বিবেচনায় নিয়েই সামনে এগোতে চানÑ ‘দেখুন হতাশার হলো একটি টেস্ট ড্র’কে যখন বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখা হয়। এটা ঠিক আমরা টেস্ট হারতে চাই না। কিন্তু এই মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের টেস্ট জয়ের জন্য খেলতে হবে। আমি ৭/৮টা টেস্ট পেয়েছি। আমার মনে হয় এখন আমি দলের সবাইকে বুঝতে পারছি, দলের সংস্কৃতিটা বুঝতে পারছি। কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে, টেস্টে ভালো করার মানসিকতাটা কীভাবে বাড়াতে হবে এসব বিষয় নিয়ে ভাবছি। আসলে আমার মনে হয় হাতে অনেক সময় আছে, আমাদের টেস্টে খুব একটা সাফল্য নেই এজন্য টেস্টে হারের ভয় আসে। এজন্য এই জায়গাটায় উন্নতি করতে হবে। মানসিকতা পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা উন্নতিটা করতে চাই। যখন আমরা টেস্ট জেতা শুরু করব তখন এটার পরিবর্তন হবে। আমি নিশ্চিত করতে চাই দল যেন সামনে আগায়।’
দলে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে আরও একটি বড় পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন ডমিঙ্গো। তা হলো পেস বিভাগে। তার ইচ্ছা একটি বিশেষায়িত পেস ইউনিট তৈরি করার, যা দেশের বাইরে যে কোনো কন্ডিশনে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। বাংলাদেশ দলকে চিনে ফেলা ডমিঙ্গোর দাবি সেই চেষ্টায় অনেকটাই সফল হয়েছেন তিনি। তাই শ্রীলঙ্কায় প্রথম টেস্টে তিন পেসার ভালো করেছেন। এবারও তাসকিন-রাহি-এবাদতকে নিয়ে দল সাজাতে চান ডমিঙ্গো। যদিও প্রচ- গরম কন্ডিশন কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু কোচ চান তিন পেসারই খেলাবেন, ‘অবশ্যই, আমি এটাই চাচ্ছি। দলে ৫-৬ জন পেসার থাকবে যারা যে কোনো সময় মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত থাকবে। আমি আগেও এই লক্ষ্যের কথা বলেছি। এখন সেই পথেই আছি। সেরা তিনজন ছাড়া আমাদের অভিজ্ঞ মোস্তাফিজুর আছে, শরিফুল আছে, খালেদ আছে। তো সব মিলিয়ে আমাদের এখন পেস বোলিংয়ে বেশ গভীরতা আছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই এবারও তিন পেসার খেলাব। কিন্তু দেখতে হবে ওরা এই গরমে টানা বোলিংয়ের চাপটা কতটা নিতে পারছে। আমরা চাচ্ছি ওদের দলে রাখার সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে ধারাবাহিক হতে। কারণ ওদের তিনজনেরই আরও টেস্ট অভিজ্ঞতা দরকার।’
ডমিঙ্গো একটা বিষয়ে সফল হতে পেরেছেন। সাকিব আল হাসানকে ছাড়া একাদশ সাজানো এবং ম্যাচ পরিকল্পনা করা। নিজেই জানালেন সাকিব না থাকায় তাকে ৬ ব্যাটসম্যান এবং ৫ বোলার নিয়ে একাদশ সাজাতে হচ্ছে। ভারতে দুটি, পাকিস্তানে একটি এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল ডমিঙ্গোকে। একে সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন ডমিঙ্গো, ‘আমাকে ৬ ব্যাটসম্যান খেলানোর বিষয়টি নিয়ে নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়েছে। এটা ঠিক আমাদের সামনে এখন এ পথটাই খোলা আছে। সাকিব থাকলে আমরা হয়তো সাতজন ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলতাম। সাকিবের ওভারগুলো বাড়তি কাজে দিত। কিন্তু এখন এই সুবিধাটা না থাকায় আমাদের সাহসী হতে হবে। ৫ বোলার নিয়ে খেলতে হবে যেন তারা ২০ উইকেট এনে দিতে পারে। তো এই সিদ্ধান্তে আমরা একটু আগাতে পেরেছি।’