প্রথমপর্ব শেষে দু’দলের ব্যবধান ৮ পয়েন্টের। ১২ ম্যাচে ১১ জয় এবং ১ ড্রয়ে বসুন্ধরা কিংস শীর্ষে আছে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে। ১২ ম্যাচে ৭ জয় ও ৫ ড্রয়ে দুইয়ে থাকা শেখ জামালের সংগ্রহ ২৬। শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে থাকা দল দুটি গোল করেছে প্রায় সমান সমান। কিংসের যেখানে ৩২ গোল, জামালের ৩১টি। তবে দু’দলের পার্থক্যটা পরিষ্কার গোল হজমের প্রশ্নে। কিংস যেখানে ১২ ম্যাচে মাত্র পাঁচ গোল হজম করেছে, সেখানে জামাল গোল খেয়েছে ১৬টি। এখানেই কিংসের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে জামাল। তবে দ্বিতীয়পর্বে সেই পার্থক্যটা ঘুচিয়ে এনে জামালেরই আছে কিংসকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা। তারাই পারে একপেশে লিগটাকে জমিয়ে দিতে।
এক্ষেত্রে অবশ্য নিজেদের ভালো করার পাশাপাশি জামালকে কিংসের পয়েন্ট খোয়ানোর প্রার্থনা করতে হবে। প্রথমপর্বে মাত্র দুই পয়েন্ট খোয়ানো কিংস দ্বিতীয়পর্বেও যদি একই পথে হাঁটে, তবে লিগ শিরোপা থেকে যাবে তাদের ঘরেই। এক্ষেত্রে জামাল অথবা ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা আবাহনী পরের ১২টি করে ম্যাচ জিতলেও কোনো লাভ হবে না। বাস্তবতাটা মানেন জামালের অভিজ্ঞ কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকও, ‘সব দলেই ফরোয়ার্ডের পাশাপাশি রক্ষণ ও মাঝমাঠে বিদেশি থাকে। আমাদের দলে সেই ভারসাম্যটা নেই। দ্বিতীয়পর্বে চেষ্টা করব রক্ষণের ফাঁক-ফোকর বন্ধ করার। আমাদের মূল লক্ষ্য সব ম্যাচ জেতা। এরপর দেখতে হবে কিংস কিছু ম্যাচে ধাক্কা খায় কিনা। সেটা হলেই শিরোপার লড়াইটা জমজমাট হবে।’
তিনবারের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের সাফল্যের ক্ষুধাটা যেন কিছুটা হলেও কমেছে। তারপরও এ মৌসুমে একটা জায়গায় ঠিকই বাহবা কুড়িয়ে নিচ্ছে ক্লাবটি। বাজেটে কিংসের অনেক পেছনে থাকলেও তারা বিদেশি সংগ্রহে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। তিন গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড পা ওমর জোবে, সুলায়মান সিল্লাহ ও সলমন কিংকে আক্রমণে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন উজবেক ফরোয়ার্ড জনভ ওতাবেক ভালিয়ানভ। এই চারে সওয়ার হয়ে প্রথমপর্বে একটা পর্যায় পর্যন্ত জামাল ছুটছিল পাগলা ঘোড়ার মতো। জিতে নিয়েছিল টানা পাঁচ ম্যাচ। আবাহনীর বিপক্ষে ষষ্ঠ ম্যাচটি ২-২ ড্রয়ের পরই যেন ছন্দপতন ঘটে। এরপর প্রথমার্ধের সেরা ম্যাচে কিংসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের আক্ষেপে পুড়তে হয় জামালকে। আবাহনী-কিংসের কাছে পয়েন্ট হারানোর পর তারা ড্র করে বসে উত্তর বারিধারা ও পুলিশ এফসির সঙ্গেও। শেষ সাত ম্যাচের পাঁচটি ড্র করতে হয় দলটিকে। অথচ এই জামাল রীতিমতো উড়ছিল ভিনদেশিদের গোলোৎসবে। ওমর জোবে ১২ গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন। সলমন কিংয়ের গোল ৬টি। আর সুলাইমান সিল্লাহ ও ওতাবেক করেছেন ৫টি করে গোল। অর্থাৎ ৩১ গোলের ২৮টিই এসেছে এই চার ফরোয়ার্ডের পা থেকে। সেরা গোলদাতার লড়াইটা ওমর জোবে লড়ছেন কিংসের ব্রাজিলিয়ান রবসন রবিনহোর সঙ্গে। দু’জনেই একটি করে হ্যাটট্রিকসহ ১২ গোল করেছেন। কিংসের আর্জেন্টাইন মার্কসম্যান রাউল বেসেরা ১১ গোল নিয়ে আছেন তাদের পরেই।
ফরোয়ার্ড লাইনের মতো প্রমাণ দিতে পারছে না শেখ জামালের রক্ষণভাগ। অভিজ্ঞ রেজাউল করিম পুরো মৌসুমেই আগলে রাখছেন জামালের রক্ষণ। তবে তিনি একা ভালো করলে তো হবে না। অন্যদের সমর্থনটা যে সেভাবে মিলছে না। তাই তো বারিধারা, পুলিশের মতো দলগুলোও তাদের ৩টি করে গোল দেয়। অনেক ম্যাচেই লিড নেওয়ার পরও তাদের গোল হজম করে পয়েন্ট খোয়াতে দেখা গেছে।
আর এই জায়গটাতেই এগিয়ে কিংস। ১২ ম্যাচে বলতে গেলে নির্ভুল ফুটবল খেলেছে অস্কার ব্রুজনের দল। রক্ষণে ইরানি খালিদ সাফিই, মাঝমাঠে ব্রাজিলিয়ান জনাথন ফার্নান্দেজ দারুণ সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন, গোল করার কাজটাও সহজ করে দিচ্ছেন রবিনহো ও রাউলের জন্য। জাল সামলাতে আছেন আনিসুর রহমান জিকোর মতো বিশ্বস্ত গোলরক্ষক। স্থানীয়দের মধ্যে রক্ষণে তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, রোমান হোসেন, মাঝমাঠে মাসুক মিয়া জনি, উইংয়ে মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মতিন মিয়াদের নিয়ে কিংস দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। সামর্থ্য বিচারে ছ’বারের শিরোপাধারী আবাহনীকেও এবার কিংসের চ্যালেঞ্জার মনে হচ্ছে না। সাইফ স্পোর্টিং, শেখ রাসেলেও সেই বারুদ নেই। প্রথমপর্বের বিচারে কিংসকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে কেবলই জামাল। দুরন্ত ফরোয়ার্ড লাইনের সঙ্গে রক্ষণ আর মাঝমাঠের সুরটা মিলে গেলেই জমে যেতে পারে লিগ।