করোনার জটিল পরিস্থিতিতে ভারতে কালোবাজারে চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে রেমডিসিভির। ছয়টি ভায়ালের দাম ৩৫ হাজার টাকার মতো হলেও এক লাখ ২০ হাজার টাকায় ওষুধটি কেউ কেউ বিক্রি করছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, চাহিদার তুলনায় জোগান কম। তাই এই অবস্থা।
দেশটিতে মাত্র ছয়টি সংস্থা রেমডিসিভির উৎপাদন করে। তার বেশির ভাগই মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে চলে যাচ্ছে। সংক্রমণ তুঙ্গে ওঠায় পশ্চিমবঙ্গেও বহু মানুষের ওই ওষুধ দরকার। কোনো হাসপাতাল ১০০ ভায়াল চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা ড্রাগ কন্ট্রোল তাদের ৩০টির অনুমোদন দিচ্ছে।
২৮ এপ্রিল কসবা থানায় এমনই এক কালোবাজারির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা দেবাঞ্জলি ভট্টাচার্য। তিনি জানান, তার বাঁকুড়াবাসী এক বন্ধুর ক্যানসার-আক্রান্ত মায়ের করোনা হয়েছে। তাকে ভর্তি করানো হয় দুর্গাপুরের এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজে।
অভিযোগ, তারা ছয়টি রেমডিসিভির কিনতে বলে বাড়ির লোককে। বিভিন্ন দিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
দেবাঞ্জলি বললেন, ‘এক পরিচিত ব্যক্তি পার্ক সার্কাসের এক জনের ফোন নম্বর দেন। ফোন করলে ৫৪০০ টাকার ওষুধের জন্য তিনি এক লাখ ২০ হাজার টাকা চান এবং রাজি থাকলে টাকা নিয়ে কোয়েস্ট মলের সামনে হাজির হতে বলেন।’
এরপর তারা পুলিশে অভিযোগ করেন।
দিন চারেক আগে অভিযোগ পেয়ে ড্রাগ কন্ট্রোলের কর্মকর্তারা অভিযান চালান। পার্ক স্ট্রিটের এক নারীর খোঁজ মেলে, যিনি একটি অনলাইন ফার্মেসির সঙ্গে যুক্ত। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি স্বীকার করেন, এক জন তাকে কিছু রেমডিসিভির এনে দেবেন বলেছেন। প্রতিটির জন্য ১৮ হাজার টাকা লাগবে। সেগুলো তিনি পরে আরও বেশি দামে বিক্রি করবেন।