পুলিশের সহায়তায় অপহৃত দুই বছরের রাশিদাকে ফিরে পেলেন মা

রাজধানীর বংশাল থানা এলাকায় হারিয়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু রাশিদা আক্তারকে উদ্ধার করে অসহায় মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল ঢকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বংশাল থানা পুলিশ।

এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে অপহরণের সাথে জড়িত নীলা বেগমকে।

বংশাল থানার ওসি মো. শাহীন ফকির জানান, মোহাম্মদপুরের সুমা নামের এক নারী রাস্তায় ভাঙারি জিনিস ও কাগজ কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৫ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুই বছরের সন্তান রাশিদাকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে কাগজ ও ভাঙারি কুড়ানোর জন্য বংশালে যান তিনি।

বিকেলে পুরাতন বংশাল রোডের মাথায় মেয়েকে বসিয়ে রেখে কাগজ সংগ্রহ করছিলেন সুমা। কিছুক্ষণ পরে দেখতে পান তার মেয়ে আর সেখানে নেই। মেয়েকে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বংশাল থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন।

ওই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে শিশু রাশিদাকে খুঁজে পেতে চার সদস্যের টিম গঠন করে ডিএমপির লালবাগ বিভাগ।

তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুজনকে শনাক্ত করা হয়।

বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কদমতলী শহিদনগর এলাকার নীলা বেগমের ভাড়া বাসা হতে ভিকটিমকে মারধরের কারণে চেহারা বিকৃত ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণকারী নীলা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, নীলা বেগম ও অপর একজন পরস্পরের যোগসাজশে শিশুটিকে চকলেট খাইয়ে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ভিকটিম রাশিদা আক্তারকে অপহরণের পর মারধর করে চেহারা বিকৃত করা হয়। ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় পুলিশের সহায়তায় তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

এ সংক্রান্তে ভিকটিমের মা সুমা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে বংশাল থানায় মামলা হয়েছে।