প্রথম অধ্যায় : ইতিহাস পরিচিতি
সৃজনশীল
১. হৃদিতা, নাফিসা ওরা ওদের মামা মুন্নার সঙ্গে জাতীয় জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বেড়াতে যায় এবং অনেক নিদর্শন দেখে। সেখানে হৃদিতা মসলিন শাড়ি, নবাবদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, গহনা দেখে এবং নাফিসা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধপক্ষের আত্মসমর্পণ দলিল ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা সংবলিত পুস্তক, পত্রিকা দেখে।
ক. ইতিহাসের জনক কে? খ. ইতিহাস কীভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করে? গ. হৃদিতা ইতিহাসের কোন ধরনের উপাদান দেখেছিল পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ঘ. প্রাচীন সভ্যতা জানার জন্য নাফিসার দেখা ইতিহাসের উপাদানগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ Ñউক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর
ক. ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস।
খ. ইতিহাসের জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্য-নির্ভর বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস। মানবসমাজের উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালো মন্দের পার্থক্যটা সহজেই বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। এভাবে ইতিহাসের শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
গ. ইতিহাসের উপাদান মূলত দুই ধরনের। যেমন, লিখিত উপাদান এবং অলিখিত বা প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন। হৃদিতা ইতিহাসের অলিখিত উপাদান বা প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন দেখেছিল। যে সব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই। সেই বস্তু বা উপাদানই হলো প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন। প্রতœতত্ত্ব নিদর্শনসমূহই মূলত ইতিহাসের অলিখিত উপাদান। যেমন; মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত ইত্যাদি। এ সমস্ত প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষ-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের ফলে সে সময়ের অধিবাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ধারণা করা সম্ভব প্রাচীন আধিবাসীদের সভ্যতা, ধর্ম, জীবনযাত্রা, নগরায়ন, নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র, ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা, কৃষি উপকরণ ইত্যাদি সম্পর্কে। উপরোক্ত ধারণার আলোকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, হৃদিতা ইতিহাসের অলিখিত উপাদান বা প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন দেখেছিল।
ঘ. উদ্দীপকের নাফিসা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ পক্ষের আত্মসমর্পণ দলিল ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা সংবলিত পুস্তক, পত্রিকা তথা ইতিহাসের লিখিত দলিল দেখে। প্রাচীন সভ্যতা জানার জন্য ইতিহাসের লিখিত উপাদানগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সাহিত্য কর্মেও তৎকালীন কিছু তথ্য পাওয়া যায়। যেমন; বেদ, কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’, কলহনের ‘রাজতরাঙ্গনী’, মিনহাজ-উস-সিরাজের ‘তবকাত-ই-নাসিরী’, আবুল ফজলের ‘আইন-ই আকবরী’ ইত্যাদি। এসব উপাদান থেকে প্রাচীন সভ্যতার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ সব সময়ই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। যেমনÑ পঞ্চম থেকে সপ্তম শতকে বাংলায় আগত চৈনিক পরিব্রাজক যথাক্রমে ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং ও ইৎসিংয়ের বর্ণনা। পরবর্তী সময়ে আফ্রিকান পরিব্রাজক ইব্নে বতুতাসহ অন্যদের লেখাতেও এ অঞ্চলের বিবরণ পাওয়া গিয়েছে। এসব বর্ণনা থেকে তৎকালীন সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্ম, আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়। ইতিহাসের লিখিত উপাদানের মধ্যে আরও রয়েছে রূপকথা, কিংবদন্তি, গল্পকাহিনী প্রভৃতির মধ্যেও প্রাচীন সভ্যতার বিবরণ রয়েছে। তাছাড়া সরকারি নথি, চিঠিপত্র ইত্যাদি থেকেও বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য অনেক তথ্য পাওয়া যায়।