আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার আবেদনসংক্রান্ত ফাইলটি এখনো তার হাতে আসেনি। ফাইল হাতে আসলে তিনি মতামত দেবেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, গতকাল বুধবার রাত ১১টায় আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে ফাইলটি পাঠানো হয়েছে। এখন যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে সেটি তার কাছে আসবে।
খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার আবেদন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাড়ি গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।
পরে শামীম এস্কান্দার দেশ রূপান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চাই আমরা। তাই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে যে কথা বলেছেন, তার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তার কাছে আবেদনপত্র পৌঁছে দিয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আবেদন পেয়েছি। বিদেশে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা হবে। আবেদনটি পরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এখন ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন।
সোমবার সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে চিকিৎসকেরা বিকেলে খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে স্থানান্তর করে।
এভারকেয়ার হাসপাতালে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড মঙ্গলবার দুপুরে খালেদা জিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো পর্যালোচনা করেন।
গত ২৭ এপ্রিল গুলশানের ওই হাসপাতালে ভর্তির পরদিনই এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরার পর গত ১১ এপ্রিল থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন খালেদা জিয়া। ১৪ দিন পর আবার পরীক্ষা করা হলে তখনো তার করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।
এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৭ এপ্রিল রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চেস্টের সিটি স্ক্যান ও কয়েকটি পরীক্ষার পর সেই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে কারাগার যেতে হয়েছিলে ৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।