‘মানবিক কারণে’ খালেদার বিদেশ যাত্রায় অনুমতির আহ্বান ফখরুলের

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার পোস্ট-কভিড জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় ‘মানবিক’ কারণে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘করোনার কোভিডোত্তর যেটাকে পোস্ট-কভিড জটিলতা হয়, সেই জটিলতায় কিন্তু মাঝে মাঝে টার্ন নেয় বিভিন্ন দিকে। ওনার (খালেদা জিয়া) যে বয়স, ওনার যে বিভিন্ন রোগ আছে, এর আগে উনি যে প্রায় তিন বছর কারাগারে ছিলেন, এখনো তিনি অন্তরীণই আছেন। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে তার যে সমস্ত জটিলতা হয়েছে এবারে। সে জন্যই আমাদের দেশের প্রায় বেশির ভাগ মানুষের আকাঙ্ক্ষা আছে ইচ্ছা আছে যে, তার চিকিৎসাটা উন্নত কোনো হাসপাতালে হওয়া উচিত। বাংলাদেশে উন্নত হাসপাতালেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরও উন্নত বিদেশে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব কিনা।”

“আপনারা  জানেন যে, গতকাল তার পরিবার থেকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য যে অনুমতি দরকার সেই অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার মানবিক কারণে তার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন এবং এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের সবচেয়ে প্রিয় নেতার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।”

খালেদা জিয়ার চিকিসার অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘আপনারা জানেন যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২৭ তারিখ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে এখানে সর্বপ্রকার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং আমাদের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তার চিকিৎসা করছেন। বাংলাদেশের মানুষ মৌলিক অধিকার যে, তারা তাদের নেতাকে সুস্থ দেখতে চায়।”

বুধবার রাতে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা পাঠাতে অনুমতি চেয়ে আবেদনপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে পৌঁছে দেন।

কর্মসূচি: খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় শুক্রবার বাদ জুমা সারা দেশে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও বিভিন্ন উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘‘আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র জুমাতুল বিদার দিন আছে। সারা দেশে সমস্ত মসজিদ, বিভিন্ন প্রার্থনালয় যেগুলো আছে অন্যান্য ধর্মের সেগুলোতে আমাদের সমস্ত ইউনিটগুলো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য দোয়া অনুষ্ঠান করবেন, প্রার্থনা সভা করবেন। আমি সকল ইউনিটের নেতা-কর্মীদের প্রতি অনুরোধ করছে যে, তারা যেন জনগণকে নিয়ে দেশনেত্রীর রোগমুক্তির জন্য দোয়া চাইবেন।”

এ সময় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও ভ্যাকসিন সংগ্রহ নিয়ে সরকারের ‘দুর্নীতি’র কঠোর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে নিহত দলীয় নেতা-কর্মীদের পরিবারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঈদ উপহার প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির ১০ জন নেতা-কর্মীর পরিবারকে ঈদের উপহার তুলে দেন মির্জা ফখরুল।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত সারা দেশে ৪২৫ জন নেতা-কর্মীরা মারা যায় বলে জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

কেন্দ্রীয় দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির হাবিব উন নবী খান সোহেল, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুব দলের এসএম জাহাঙ্গীর, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্‌যাপন উপকমিটির নেতা আতিকুর রহমান রুমন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।