পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় জরুরি যানবাহনের সঙ্গে পার হচ্ছে শত শত যাত্রী

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়াসহ দেশের সকল নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু মরদেহ ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, আইনশৃঙ্খলা এবং সামরিক বাহিনীর যানবাহনের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে পার হচ্ছেন যাত্রীরাও।

যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে ঘাট এলাকায় জড়ো হচ্ছে লোকজন। পন্টুনে শত শত যাত্রী থাকায় নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। জোর করে ফেরিতে উঠে যাচ্ছে।

দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ২১টি জেলার প্রবেশপথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট।

শনিবার ভোর ৬টা থেকে সকল প্রকার ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে বিআইডব্লিউটিসি। কিন্তু ঈদের আর কয়েক দিন বাকি থাকতে হাজার হাজার যাত্রী বিভিন্নভাবে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় আসতে থাকে। সেই সাথে শত শত ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রো রো ফেরি কেরামত ও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামের দুটি ফেরি পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

তাছাড়া ৩টা পর্যন্ত কয়েক দফায় ফেরি ছেড়ে গেছে এবং দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া এসে পৌঁছেছে।

এর আগে পাটুরিয়া- ২ নম্বর ঘাটে দুটি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নৌপথ পারি দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। একটি ছোট ফেরি পন্টুনে নোঙর করতে চাইলে শত শত যাত্রী গাদা-গাদি করে পন্টুনে অপেক্ষা করে। পরে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স পার হওয়ার সময় যাত্রীরা উঠে পড়েন ফেরিতে।

এদিকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় সকাল থেকেই রাজধানী থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকে ভিড় করতে থাকে। এসব যাত্রীদের দেখা গেছে অ্যাম্বুলেন্সসহ অতীব জরুরি যানবাহন ফেরিতে ওঠামাত্র জোর করে ফেরিতে উঠে পড়ছেন। পাশাপাশি ওই সময়ে কিছু ব্যক্তিগত যানবাহনও পারাপার হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পাটুরিয়া ঘাট এলাকার নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত কয়েক শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন ফেরি পারের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর যানবাহন ও জরুরি যানবাহনগুলো ছোট ২টি ফেরি দিয়ে পার করা হচ্ছে। এ সময় কিছু অনিয়ন্ত্রিত যাত্রীও ফেরিতে উঠে পড়ছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আমাদের স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। শনিবার সকাল থেকেই তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অন্য জেলার গণপরিবহন মানিকগঞ্জে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।