‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যা কাটা হবে তার ১০ গুণ গাছ লাগানো হবে’

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা নিয়ে উদ্ভূদ পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক বলেছেন, যে সংখ্যক গাছ কাটা হবে তার ১০ গুণ গাছ লাগানো হবে।

শনিবার প্রকল্প পরিচালক মো.হাবিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

তিনি বলেছেন, যখনই যেই গাছ কাটা পড়বে, সেই গাছের বিপরীতে ১০টা গাছ লাগানো হবে। আর সামগ্রিকভাবে অন্তত এক হাজার গাছ লাগানো আমাদের লক্ষ্য।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে এখন স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের কাজ চলছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

প্রকল্প বাস্তবায়নে শতাধিক গাছ কাটা পড়ায় পরিবেশবাদী সংগঠনসহ বিভিন্ন জন সরব হয়েছেন। এই উদ্যান নিয়ে হাই কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগও উঠেছে।

তবে এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাবিবুল ইসলাম নতুন করে আরও গাছ লাগানোর কথা বলেন।

পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সামনের বর্ষা আসলেই গাছ লাগানোর কাজ শুরু করব। কোন স্থাপনার পাশে কোন উচ্চতার গাছ হবে, সেই উচ্চতার গাছ পরিকল্পনা করে লাগাব।

তিনি বলেন, আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সারা বছর কোন কোন গাছে ফুল থাকবে, সেই ধরনের পরিকল্পনা করে গাছ রোপণ করব।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এখন কতটি গাছ রয়েছে এবং এর মধ্যে ঠিক কতটি কাটা পড়ছে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, সরকার গাছকে না কেটে বাঁচানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একান্তভাবে জরুরি না হলে কোনো গাছ কাটা পড়বে না। সিদ্ধান্ত হলো যতটা না কাটা যায়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কর্মসূচি পালনকারীরা গাছ কেটে খাবারের দোকান, হাঁটার পথ, গাড়ি রাখার স্থান নির্মাণের বিরোধিতা করছেন।

 

প্রকল্প পরিচালক হাবিবুল এ বিষয়ে বলেন, এখানে কোনো রুটি বা ভাতের দোকান হচ্ছে না। উদ্যানে ঘুরতে এসে এখানকার নানান স্থাপনা দেখতে দেখতে একজন মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন, তার একটু পানির পিপাসা পেতে পারে বা তার টয়লেট ফ্যাসিলিটির প্রয়োজন হতে পারে। তখন যাতে তিনি একটা জায়গায় বসে বিশ্রাম নিতে পারেন, এজন্য পুরো উদ্যানে সাতটি ‘ফুড কিওস্ক’ তৈরি করা হবে। সেখানে পানি ও হালকা নাশতা গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে এবং তার পেছন দিকে মহিলা এবং পুরুষদের জন্য আলাদা টয়লেট থাকবে।

তিনি বলেন, আসলে যে কোন রিফর্মের মাঝ পথে দেখলে এই রকমই মনে হবে। একটু সময় দিতে হবে। মনে রাখতে হবে যে সরকার একেবারেই বেখেয়ালে কোনো কাজ করে না, যে কাজটা করে, গুছিয়ে করে। মাঝপথে এমন লাগতেই পারে। তবে কাজ শেষ হলে তা একটা নান্দনিক বিষয় হবে।

হাবিবুল বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঠিক যেখানে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই স্থান এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিল যে টেবিলে সই হয়েছিল, সেই টেবিল রাখার স্থানটি চিহ্নিত করা হয়েছে। পয়েন্টটা এক সময় শিশু পার্কের সীমানার মধ্যে ছিল, যা এখন সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দুই পয়েন্টকে সংরক্ষণ করে সেখানে ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য তৈরি করে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কাজটা যখন শেষ হবে, তখন যে কোনো দেশি বা বিদেশি দর্শনার্থী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভবিষ্যতে যখন আসবেন, একই সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে জানবেন,আমাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানবেন।