সহজে ব্যাংক ঋণ পেতে সরকারের নির্দেশনা চান গার্মেন্টস মালিকরা

শ্রম আইনে বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি বেশ কিছু পোশাক কারখানাগুলো। ঈদ ছুটির পূর্বে সব কারখানা বেতন পরিশোধ করতে পারবে কি না তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।

রুগ্‌ণ কারখানাগুলো যাতে শ্রমিকের বেতন পরিশোধে শর্ত শিথিল করে ব্যাংক ঋণ চাচ্ছে মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। এ জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নির্দেশনা চাইছেন তারা।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান রবিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, করোনায় সবারই ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল কমে গেছে। এতে অনেক কারখানা মালিক বেতন-বোনাস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। আমরা বিষয়টি মাথায় নিয়ে সরকারের কাছে একটি প্রণোদনাও চেয়েছিলাম। এরপরে গত ৩ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারকে আমরা বলেছিলাম, অন্তত আমাদের ব্যাংক ঋণটা সহজ করে দিতে, যাতে শ্রমিকের বেতন দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ পায়।

তিনি বলেন, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি। সরকার যদি এখনই উদ্যোগ না নেয় তাহলে কিছু কারখানার বেতন-বোনাস নিয়ে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। শিল্প ও শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে এটি খুবই জরুরি।

বিজিএমইএর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ৭০০ কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এর মধ্যে ৬৮৪টি কারখানা পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। পরিদর্শন তথ্য অনুযায়ী, ৯৪ শতাংশ কারখানার বেতন ও বোনাস নিয়ে কোনো প্রকার সমস্যা হবে না। বাকি কারখানাগুলোর কারও বোনাস, কারও কারও বেতন ও বোনাস নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারখানার পক্ষে নিজ উদ্যোগে অর্থের জোগান দেওয়া সম্ভব না। আবার ব্যাংকগুলোও নানাবিধ সমস্যায় এসব কারখানাকে ঋণ দিতে চাইছে না।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনায় ক্রয়াদেশ কমে গেছে। এ জন্য বেশ কিছু কারখানা তাদের সক্ষমতা হারিয়েছে। ব্যাংক যদি মানবিক দিক বিবেচনা করে শ্রমিকের বেতনের জন্য ঋণ দেয় তাহলেই সমাধান হবে। এ জন্য প্রয়োজন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা। আমাদের হাতে সময় আছে মাত্র ২ দিন। সরকারকে এই সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত দিতে হবে। অন্যথায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। তাই সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটা নির্দেশনা দিন।