ভারতে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ-ভারত দু-দেশের সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। তবে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরা আগরতলা থেকে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের অনাপত্তিপত্র নিয়ে দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকরাও বিশেষ অনুমতি নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ১৪ দিনে আখাউড়া চেকপোস্ট দিয়ে ৩০৯ জন বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়রা দেশে প্রবেশ করেছেন। এতে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে আখাউড়া।
ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতফেরত নাগরিকদের হাসপাতাল এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলায় ৫টি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ১২২ জনকে রাখা হয়েছে। ১০০ জনকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে কর্মরত ১৪ জনকে ভারতীয়দের দূতাবাসাতে পাঠানো হয়েছে এবং সশস্ত্রবাহিনীর ৩৩ সদস্যকে সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুর রহমান বলেন, ভারত থেকে বেশি লোক আসায় আমরা আখাউড়াবাসী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে যদি কেউ করোনা সংক্রমিত হয়ে আসে, তাহলে আমাদের জন্য খুবই দুশ্চিন্তার কারণ রয়েছে।
উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া পৌরশহরের সড়ক বাজারে নাইন স্টার হোটেলে রবিবার পর্যন্ত ১৩ জন এবং রজনীগন্ধা হোটেলে ৯ জন কোয়ারেন্টাইনে আছে। কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি দেখভাল করার জন্য আখাউড়ায় জেলা প্রশাসনের দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।
এ অবস্থায় বিষয়টির গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি দুপুরে আখাউড়া স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান। পরিদর্শনকালে তিনি আখাউড়া ইমিগ্রেশন অফিস ঘুরে দেখেন।