সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে গতানুগতিকতার বাইরে বৃহত্তর কল্যাণে ভিন্নতর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতিকে (পুনাক) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ড. বেনজীর আহমেদ।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুনাকের ২২তম সভানেত্রী হিসেবে জীশান মীর্জার দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংবর্ধনা এবং সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে ‘প্রগতির জয়গান’ শিরোনামে ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।
আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন পুনাকের দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। আমাদের দেশে কারুশিল্প, তাঁত শিল্প ইত্যাদির ঐতিহ্য রয়েছে। দেশের একেক অঞ্চলে এক এক ধরনের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত পণ্যসমূহ নিয়ে ঢাকায় একটি মেগা শো রুম করার পরামর্শ দেন আইজিপি।
গত এক বছরে পুনাকের কিছু উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, করোনায় কোন ব্যক্তি মারা গেলে যখন আপনজনরা দূরে সরে গেছেন, তখন দাফন ও সৎকার করেছে পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পুনাক এ রকম একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সংবর্ধনা দিয়েছে, তাদের কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের নিজ কর্মপরিবেশে গিয়ে ইফতার বিতরণ করেছে, যা সত্যিই অভিনব।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অভিঘাতসহ নানামুখী কারণে আমরা একে অপরের থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। আমরা একটি ফেসবুক নির্ভর সমাজ গড়ে তুলছি। এ বাস্তবতায় শিশুদের মনের কথা শুনতে তাদেরকে নিয়েও পুনাক ব্যতিক্রমী প্রশংসনীয় অনুষ্ঠান করেছে। ভবিষ্যতে নতুন উদ্যমে পুনাক এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইজিপি।
পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা তার দায়িত্বকালীন সময়ের বর্ষপূর্তিতে আয়োজিত সংবর্ধনার জন্য সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও সবার অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতায় গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী কাজ করেছে পুনাক।
তিনি বলেন, পুনাকের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীকে ‘পুনাক ব্র্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত করাতে চাই আমরা। অসচ্ছল ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
পুনাকের প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা নাসিম আমিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও গান পরিবেশন করা হয়।