ঈদের দিন মাত্র ২৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই বন্দরনগরীর নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা হয়েছে। এ কারণে অনেকের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়েছে। পড়তে হয়েছে নানা ভোগান্তিতে। নগরবাসীর অভিযোগ, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গত তিন বছর বছর ধরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে যা এখনো শেষ হয়নি। এরপরও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে নগরবাসী এখনো মুক্তি পাচ্ছে না।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঈদের দিন শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। তখন থেমে থেমে ঘণ্টাখানেক বেশি সময় ধরে বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এদিন ২৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে বন্দরনগরীর বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, শুলকবহর, মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, চকবাজার, বাকলিয়া, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ নগরীর নিম্নাঞ্চলের অনেক সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটুসমান পানি উঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এমনকি কিছু বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও পানি ঢুকে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে যায় নগরবাসী। অনেকে মসজিদে ঈদের জামাত পড়ে বাসাবাড়িতে ফিরতে গিয়ে চরম বেকায়দায় পড়ে।
মাহবুব আলম নামে শুলকবহর এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই আমাদের শুলকবহর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। কিন্তু কিছুদিন আগে এখানে সিডিএ নালা সম্প্রসারণ কাজ করেছে। এরপরও বৃষ্টি হওয়ার পরও কেন এখানে জলাবদ্ধতা হচ্ছে? এবারও তো আমাদের ঈদ আনন্দই মøান হয়ে গেছে। নামাজ শেষে বাসা থেকে বেরই হতে পারিনি। গলিতেই হাঁটুসমান পানি। এমনকি কয়েকটি দোকানপাটেও পানি ঢুকে গিয়েছিল। জলাবদ্ধতার এইদুর্ভোগ কি কখনো যাবে না?’
বাকলিয়া এলাকার শিহাব ইকবাল নামে এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই বাকলিয়া এলাকায় পানি উঠে। এটাই স্বাভাবিক। এবার ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বাসা থেকেই বের হতে পারিনি। জানি না বাকলিয়া এলাকার জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কখন কমবে।’
এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গত তিন বছর ধরে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ’র মেগা প্রকল্পের কাজ চললেও এখনো তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ অনেক নগরবাসীর। তবে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত প্রায় তিন বছরে প্রায় ৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। আগামী বর্ষার আগে প্রকল্পের অনেকাংশ শেষ হবে।
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ’র মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর। পাশাপাশি সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পৃথকভাবে আরও দুটি প্রকল্পের কাজ করছে। এদিকে সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া মেগা প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণ, ড্রেন প্রশস্তকরণ, অনেক ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
সিডিএ’র প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আহমেদ মাঈনুদ্দীনকে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কল করে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি কেমন প্রশ্ন করতেই তিনি সংযোগ কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন।