নবম-দশম শ্রেণি : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

প্রথম অধ্যায় : ইতিহাস পরিচিতি

সৃজনশীল

১. অহনা ও বিউটি দুই বান্ধবী। তারা ক্লাস শেষে একদিন ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করছিল। অহনা বলল, মানব সমাজের শুরু থেকে যাবতীয় কর্মকাণ্ড, জীবন-যাত্রার অগ্রগতি ইতিহাস থেকে জানা যায় এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে বহু ধারণা পোষণ করেন। মানব সমাজের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করাই হলো ইতিহাস। বিউটি বলল, দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

ক. স্তম্ভলিপি ইতিহাসের কোন ধরনের উপাদান?

খ. ইতিহাসের বিষয়বস্তু বলতে কী বুঝায়?

গ. অহনার আলোচনা থেকে ইতিহাসের সংজ্ঞায়ন সম্পর্কে যে ধারণা পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. বিউটির বক্তব্য মূল্যায়ন কর।

উত্তর

ক. স্তম্ভলিপি ইতিহাসের অলিখিত বা প্রত্তানত্ত্বিক উপাদান।

খ. মানব সমাজ ও সভ্যতার ধারাবাহিক পরিবর্তনের প্রমাণ ও লিখিত দলিল হলো ইতিহাস। ইতিহাসের বিষয়বস্তুর পরিসর ব্যাপক। ঐতিহাসিক ভিকো মনে করেন, মানব সমাজ ও মানবীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপত্তি ও বিকাশই ইতিহাসের বিষয়বস্তু। মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন যা মানব সমাজ ও সভ্যতায় উন্নতি ও অগ্রগতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে, যেমন-শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি, দর্শন, স্থাপত্য, রাজনীতি, যুদ্ধ, ধর্ম, আইন প্রভৃতি বিষয় সামগ্রিকভাবে যা কিছু সমাজ-সভ্যতা বিকাশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করেছে, তাই ইতিহাসের বিষয়বস্তু।

গ. উদ্দীপকে অহনার আলোচনায় বর্ণিত হয়েছে, মানব সমাজের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করাই হলো ইতিহাস। কিন্তু সব ঐতিহাসিক একবাক্যে একটি সংজ্ঞাকেই ইতিহাসের যথাযথ সংজ্ঞা হিসেবে মেনে নেননি। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা পোষণ করেন। ইতিহাস শব্দটি উৎপত্তি হয়েছে ‘ইতিহ’ থেকে । ই এইচ কার-এর ভাষায় ইতিহাস হলো বর্তমান এবং অতীতের মধ্যে এক অন্তহীন সংলাপ। গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস তার লেখায় সর্বপ্রথম ঐরংঃড়ৎরধ শব্দের ব্যবহার করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা প্রদান করেন। উদ্দীপকের অহনার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় বিভিন্ন ঐতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে বহু ধারণা পোষণ করেন। হেরোডোটাস বিশ্বাস করতেন, ‘ইতিহাস হলো যা সত্যিকার অর্থে ছিল বা সংঘটিত হয়েছিল তা অনুসন্ধান করা ও লেখা।’ এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক ড. জনসন বলেন, ‘যা কিছু ঘটে তাই ইতিহাস।’ টয়েনবির মতে, ‘সমাজ জীবনই ইতিহাস।’ আধুনিক ইতিহাসের জনক লিওপোল্ড ফন্ র‌্যাংকে মনে করেন, ‘প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তার অনুসন্ধান ও তার সত্য বিবরণই ইতিহাস।’ ইতিহাসবিদ র‌্যাপসন বলেন, ‘ইতিহাস হলো ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও ধারাবাহিক বর্ণনা।’

ঘ. উদ্দীপকে বিউটি বলেছে, ‘দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্যনির্ভর বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস। এ কারণে জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব অসীম। ইতিহাস পাঠ মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ অনুমান করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষের পক্ষে নিজের এবং নিজ দেশ সম্পর্কে মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব। সুতরাং দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং ব্যক্তির প্রয়োজনে ইতিহাস পাঠ অত্যন্ত জরুরি। তাছাড়া অতীতের সত্যনিষ্ঠা বর্ণনা জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশের সফল সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্যের তাহলে তা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। ইতিহাসজ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তুলে। ইতিহাসের ব্যবহারিক গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয়তাবোধ এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ়করণে ইতিহাস পাঠের বিকল্প নেই। ইতিহাস হলো একমাত্র বিষয় যার মাধ্যমে একটি জাতির অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায়। ইতিহাস দৃষ্টন্তের মাধ্যমে শিক্ষা দেয় বলে ইতিহাসকে বলা হয় শিক্ষার্থীর দর্পন। দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির স্বার্থেই ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন। সঠিক ইতিহাসের মাধ্যমে নিজ দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির ধারাকে গতিশীল রাখা যায়। পরিশেষে বলা যায়, দেশ ও জাতি সম্পর্কে জানতে এবং তাদের অগ্রগতির জন্য অবশ্যই ইতিহাস পাঠ করতে হবে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বিউটির বক্তব্যটি যথাযথ।