এফ এম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) একজন স্বনামধন্য করপোরেট কর্মকর্তা (ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক), ক্রীড়াপ্রেমী, সংগঠক, সাবেক খেলোয়াড়, শিক্ষক- এত দিন এই পরিচয়েই পরিচিত ছিলেন। এবার তার পরিচয়ে নতুন এক পালক যুক্ত হয়েছে। সংগীত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন তিনি। নতুন পরিচয়ের বয়স এই তো বছর দেড়েক হতে চলল।
অল্পদিনেই সঙ্গীতপিপাসুদের মাঝে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। শুধু ফোক-ফিউশনেই আবদ্ধ রাখেননি; আধুনিক গানেও নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ডন তার নজরুলগীতির চর্চাটা চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। কর্মব্যস্ততার ফাঁকগলে রুটিন মেনে নিয়মিত সংগীতচর্চা করে যাচ্ছেন। গানের ভুবনে নতুন অতিথি হলেও ইকবাল বিন আনোয়ারের গানের চর্চা নতুন নয়। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি অনুরক্ত তিনি।
গত বছর করোনার শুরু থেকেই নিজের পুরোনো প্রতিভাকে (গান) আরও একবার শাণিত করার, গান গেয়ে নিজেকে সকলের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস চালান ডন। আর তার এ যাত্রায় বন্ধুর হাতটি বাড়িয়ে দেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। তবে এটিএন বাংলার তালিকাভুক্ত শিল্পী হতে কঠিন এক পরীক্ষা দিয়ে; সেখানে পাশ নম্বর পেয়ে তবেই নির্বাচিত হয়েছেন ডন। এটিএন বাংলা চ্যানেলে গত বছর রোজার ঈদে প্রথমবারের মতো একক সংগীতানুষ্ঠানে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে পেশাদার শিল্পী হিসেবে পথচলা শুরু ইকবাল বিন আনোয়ার ডনের।
কর্মব্যস্ততায় বহু বছর গান থেকে দূরে ছিলেন। তবে বাড়িতে গানের চর্চাটা কম-বেশি চালু ছিল। ঘরোয়া অনুষ্ঠান বলুন কিংবা শিক্ষক থাকাকালীন কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গানের জন্য ডাক পড়ত তার।
ডনের গান গাওয়া শুরু তার জন্মস্থান টাঙ্গাইল থেকেই। ওস্তাদ ওয়াহিদুজ্জামান শিশিরের কাছে হাতে-খড়ি। খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিচর্চা দুটোই ছিল ডনের পরিবারে। সংস্কৃতিমনা এক পরিবারের সন্তান তিনি। ডনের মা তো ছেলের গানের বিরাট ভক্ত। পরামর্শকও। ডন আবার নিজের মাকে গানের ওস্তাদ বলেও মানেন। বাড়িতে যখন গান করেন, সেখানে সামান্য ভুল-ত্রুটি হলে মা সঙ্গে সঙ্গে ধরে বসেন। এতটুকু ভুলত্রুটিও মায়ের কান এড়ায় না। ভালোবেসে গানের জগতে পা রাখা হলেও এখন পেশাদার হিসেবে নিয়মিত গানের প্রোগ্রাম করছেন; গান গাইছেন ডন। গানের জন্য অনেকের প্রশংসাও পাচ্ছেন। আরো ভালো গাইতে অনেকে দিচ্ছেন উৎসাহ, পরামর্শও।