২০১৮ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ‘স্যান্ডপেপার’ কেলেঙ্কারি নিয়ে নিষিদ্ধ হওয়া অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান ক্যামেরন ব্যানক্রফটের নতুন মন্তব্যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ঘটনার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা সবাই অবগত ছিলেন বলে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তিনি। এই পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই টেস্ট খেলা চার অজি বোলার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়ন যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ‘আমরা জানতাম না বর্জিত এক বস্তু মাঠে বলের আকার পরিবর্তনের জন্য আনা হয়েছিল। আমরা সেই চিত্র সর্বপ্রথম নিউল্যান্ডসের (কেপটাউনের মাঠ) বড় স্ক্রিনেই দেখতে পাই। যারা মনে করছেন যে আমরা বোলার বলেই এই বিষয়ে অবগত ছিলাম, তাদের উদ্দেশ্যে জানাতে চাই, ম্যাচের আম্পায়াররাও বড় স্ক্রিনের ছবি দেখার পরেই বলের পরিস্থিতি পরীক্ষা করেন। তারা পরীক্ষা করার পরেও একই বলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ বলে কোনোরকম পরিবর্তনই দেখা যায়নি।’
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যানক্রফট বলেন, ‘আমি যেটা করেছিলাম, সেটা তো বোলারদেরই সাহায্য করেছিল। ঘটনাটা সম্পর্কে যে সবাই ওয়াকিবহাল ছিল, তা তো বোঝাই যাচ্ছে।’ ব্যানক্রফটের এই অভিযোগের পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মুখপাত্র বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বারবার বলে এসেছে- যদি কারও কাছে সেই টেস্ট নিয়ে নতুন কোনো তথ্যপ্রমাণ থাকে, তবে সে যেন তা জানায়। ওই সময় খুব খতিয়ে তদন্ত হয়েছিল। ওর পরে কিন্তু কেউ এমন কিছু তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি, যা দেখে অস্ট্রেলীয় বোর্ডের তদন্তের ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।’ কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিংয়ে ব্যানক্রফটকে ৯ মাস এবং স্মিথ-ওয়ার্নারকে এক বছর নির্বাসিত করা হয়েছিল। সেই সময়ও কেউ কেউ শুধু এই তিন ক্রিকেটারকে শাস্তি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মাইকেল ক্লার্ক, অ্যাডাম গিলক্রিস্টের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা এ নিয়ে মুখ খুলেছেন এবার। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে গিলক্রিস্ট বলেছেন, ‘যারা জড়িত ছিল তাদের পরিচয় ঠিক ধরা পড়বে। অনেকেই এই ঘটনাকে এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল। এখন সঠিক সময় দেখে তারা সব বলতে শুরু করেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াই এর জন্য দায়ী। তখন এটাকে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে ধরে তিনজনকে শাস্তি দেওয়া হলো। বাকিরা নাকি জানত না। আবার এটাও হতে পারে, ব্যানক্রফট নিজের ইচ্ছায় শিরিশ কাগজ ঘষেছে বলে, বাকিদের জানায়নি। তবে বোর্ডের উচিত ছিল আরও ভালো করে তদন্ত করা।’ সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক বলেছেন, ‘একটা পেন দিয়ে আমার ব্যাটে যেখানে খুশি আঁচড় কাটুন, সেটা আমি বুঝতে পারব। বোলাররা সেখানে বলটা হাতে নিয়ে বোলিং করেছে। ওরা সেটার বদল সম্পর্কে জানবে না এটা হতে পারে?’