করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান ‘লকডাউনে’র (বিধিনিষেধ) মেয়াদ আরও সাত দিন বাড়িয়ে ২৩ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। এরই মাঝে রাজধানীতে গণপরিবহন চালু থাকলেও যাত্রী সংকটে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অপেক্ষায় থাকলেও যাত্রী না পেয়ে অর্ধেকের কম যাত্রী নিয়ে বাধ্য হয়ে চলছে গণপরিবহনগুলো।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়েছে এক কোটির বেশি মানুষ। আর সিটির বাসগুলোর বেশিরভাগ চলে চুক্তিভিত্তিক। সে জন্য পরিবহনশ্রমিকরা লোকসানের ভয়ে মালিকদের কাছ থেকে গাড়ি নিয়ে চালাতে চাচ্ছেন না। আর যে গাড়িগুলো চলছে, সেগুলোও যাত্রী সংকটে পড়ছে। মানুষ যদি ফের ঢাকায় আসতে শুরু করে তাহলে সিটির বাসগুলোর যাত্রী সংকট কিছুটা কমবে। কিন্তু ‘লকডাউন’ বাড়ায় ফের শঙ্কায়ও আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদরঘাট, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, পল্টন, শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন স্ট্যান্ডে বাসগুলো যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে। বেশিরভাগ বাস অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চলতে দেখা গেছে। আগের থেকে বাসের সংখ্যাও কম দেখা গেছে স্ট্যান্ডগুলোতে। তবে যাত্রীরা মাস্ক পরে উঠলেও বাসে তাদের জন্য কোনো স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
সদরঘাট বাসস্ট্যান্ডে তানজিল পরিবহনের চালক মো. বাবু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিরপুর থেকে সদরঘাটে অর্ধেকের কম যাত্রী নিয়ে আসলাম। অন্য সময় এই এক টিপে দুই হাজারের বেশি টাকা উঠলেও এখন মাত্র ৫০০ টাকা পেলাম। অথচ তেলের খরচ আছে এই এক টিপে ৭০০ টাকার মতো। তাহলে গাড়ি চালিয়ে নিজেই বা কী নিব আর মালিককেই বা কী দিব।’
ভিক্টর পরিবহনের চালক মো. সাগর বলেন, ‘করোনাভাইরাসের জন্য আবারও “লকডাউন” দেওয়ায় মানুষ আগের মতো ঈদে বাসা থেকে ঘুরতে বের হচ্ছে না। এ জন্যই যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। দুই বছর আগেও ঈদের সময় গাড়ি চালালে ভালোই ইনকাম হতো। এখন রোডের যে অবস্থা গাড়ি নিয়ে বিপদে আছি।’
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাদ্দাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অফিস থেকে পরিবহনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রাবাড়ী থেকে শাহবাগ বাধ্য হয়ে গণপরিবহনে অফিসে আসা-যাওয়া করি। তা ছাড়া অন্য যানবাহনে চললে ভাড়া তিন গুণ লেগে যায়। সিটিতে গণপরিবহন চলায় আমাদের উপকার হয়েছে। কিন্তু বাসগুলো সময়মতো ছাড়ছে না। বেশিরভাগ সময় স্ট্যান্ডগুলোতে বসে থাকতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণপরিবহনে যাত্রী সংকটের প্রধান কারণ হলো সরকারের দেওয়া যে নির্দেশনা আছে, সেগুলো বাস মালিকরা মানছে না। আর সে জন্যই দেশের মানুষ গণপরিবহন আগের মতো ব্যবহার করছে না। যাত্রীদের কথা চিন্তা করে যদি বাসে স্বাস্থ্যবিধির নিয়মকানুন পরিবহন মালিকরা মেনে চলেন, তাহলে বাসে যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিটির গণপরিবহনগুলোর যাত্রী সংকট দুই-তিন দিনের মধ্যে কমে যাবে। কারণ ঈদে যারা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিল, তারা ঢাকায় আসতে শুরু করেছে। কিন্তু মালিকরা যদি এই কঠিন সময়ে পরিবহন শ্রমিকদের কথা না চিন্তা করে এখনো চুক্তিভিত্তিকভাবে গাড়ি চালাতে বাধ্য করেন, তাহলে শ্রমিকদের অনাহারে দিন কাটবে।’
এদিকে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে দেশে আট দিনের কঠোর ‘লকডাউন’ শুরু হয়। ‘লকডাউনে’র মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। পরে তিন দফা ‘লকডাউনে’র মেয়াদ বাড়ানো হয়।