প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
বুধবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই পুরো ঘটনায় আমরা যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছি।
এতে বলা হয়, “রোজিনা ইসলামের ‘অপরাধ’, তিনি ব্রিটিশ আমলের দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন-১৯২৩ ভঙ্গ করে, অনুমতি ছাড়া, দাপ্তরিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে রয়েছে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯। এই আইন অনুসারে এসব দাপ্তরিক তথ্য পাওয়ার অধিকার কেবল সাংবাদিকের কেন, যেকোনো নাগরিকেরই রয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, ‘এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রণালয় অধুনা আইনের পরিবর্তে ঔপনিবেশিক আইনকে প্রণিধানযোগ্য ভাবছে। এই আইনকে সাক্ষী মেনে কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা লিখিত হয়েছে। সরকার ও তার আমলাতন্ত্র গণতান্ত্রিক মানসিকতা ছুড়ে ফেলে ঔপনিবেশিক মানসিকতাকে শিরোধার্য করেছে।’
তারা বলেন, “আমরা জানি ও বুঝি রোজিনা ইসলামের মূল ‘অপরাধ’ ভিন্ন। তিনি চলমান অতিমারির মধ্যে ধারাবাহিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন রচনা করেছেন। তাই তাকে ‘বাগে পেয়ে’ ‘শাস্তি’ দিচ্ছে উন্মোচিত মুখের ঐক্যবদ্ধ দল। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নির্বাহী ও আমলাতন্ত্রের মধ্যে ঐক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মধ্যে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দুর্নীতিতেও উভয় পক্ষের যোগসাজশ রয়েছে। রোজিনার প্রতিবেদনে তাই উঠে এসেছে। ’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রোজিনা ইসলামকে অপরাধী সাজানোর পুরা আয়োজনটিও ভয়াবহ এবং প্রতিহিংসার দলিল। তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখার ব্যাপারটিও ফৌজদারি অপরাধ।’
রোজিনা ইসলামকে যারা অন্যায়ভাবে আটকে রেখে নির্যাতন করেছেন ও পেশাগত কাজে বাধা দিয়েছেন তাদের বিচারের দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
তারা দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন-১৯২৩ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ বাতিল এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের ১০০ শিক্ষক স্বাক্ষর করেন।