নিষিদ্ধ ‘স্ট্রিমকার’ অ্যাপ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত চারজন গ্রেপ্তার

দেশে নিষিদ্ধ ‘স্ট্রিমকার’ নামের লাইভ ভিডিও ও চ্যাট অ্যাপ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের বিশেষায়িত অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে একজন তরুণীও রয়েছেন।

বুধবার বারিধারায় এটিইউ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশের ভাষ্য, এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতি মাসে বাংলাদেশিদের অন্তত শতকোটি টাকা পাচার হচ্ছে।

মঙ্গলবার সাভার, নোয়াখালীর সুধারাম ও রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন - জমির উদ্দিন (৩৫), কামরুল হোসেন ওরফে রুবেল (৩৯), মনজুরুল ইসলাম হৃদয় (২৬) ও অনামিকা সরকার (২৪)। তাদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মুদ্রা পাচার আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অ্যাপটিতে দুই ধরনের আইডি আছে। একটি হোস্ট, অন্যটি সাধারণ ব্যবহারকারীর আইডি। এগুলোর অনুমোদন দেওয়ার জন্য অনেকগুলো ‘এজেন্সি’ গড়ে তোলা হয়েছে দেশজুড়ে। হোস্ট আইডিগুলো হয় সাধারণত তরুণী, কিশোরী বা নন্দিত তারকাদের। একটি এজেন্সির অধীনে অন্তত ১৫টি হোস্ট আইডি থাকতে হয়। তবে দেশের একেকটি এজেন্সির অধীনে দেড় থেকে দু শ পর্যন্ত হোস্ট আইডি রয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা এটিইউর সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এটা নিয়ে কাজ করছিলাম আমরা। এর একটি অংশ ধরা পড়েছে। পরবর্তী তদন্তে বাকিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এই নিষিদ্ধ অ্যাপ বাংলাদেশে কিভাবে পরিচালনা করা হয়, কারা জড়িত এবং ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করাসহ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও পাচারের তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এটিইউর পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান। আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আসলাম হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্ট্রিমকার অ্যাপটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। ভিপিএন ব্যবহার করে এ দেশ থেকে যুক্ত হন ব্যবহারকারীরা। অভিযানে তারা এই অ্যাপ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একটি এজেন্সির ‘স্যালারি শিট’পেয়েছেন। নারীদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া ও জুয়া খেলার’ এই অ্যাপের সেবা নিতে বিশেষ ভার্চুয়াল বা ডিজিটাল মুদ্রা কিনতে হয়, যা হাতবদল হয়ে মূলত দেশের বাইরে পাচার হয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ ভিডিও ও লাইভ চ্যাটের প্ল্যাটফর্ম স্ট্রিমকার অ্যাপটির বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় তরুণীদের সঙ্গে আড্ডা (লাইভ চ্যাট) দেওয়ার কথা প্রচার করা হয়। চটকদার এসব বিজ্ঞাপন দেখে যারা অ্যাপের লাইভ চ্যাট রুমগুলোতে যোগ দিতে চান তাদের নগদ অর্থ খরচ করে অ্যাপের নিজস্ব মুদ্রা (কয়েন) বা ডিজিটাল বা ভার্চ্যুয়াল কারেন্সি কিনতে হয়। অ্যাপটিতে রয়েছে ছয় ধরনের জুয়া খেলার সুযোগও। অনেকে আড্ডা দিতে ঢুকে জুয়া খেলায় অভ্যস্ত হয়ে দেদারসে টাকা খোয়ান বলে এটিইউর কর্মকর্তারা বলেন। এই চক্রের মূল লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা। যারা ভালো আয় করলেও পরিবার থেকে দূরে থাকার কারণে অনেকটা নিরানন্দ জীবনযাপন করেন।