রাজধানীর মিরপুর দুই নম্বর সেকশনের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে মাহমুদুল হক রকি (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর ২টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।
এ সময় তার লাশে পচন ধরে যায়। রকি মিরপুরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ছিলেন।
পুলিশ জানায়, মিরপুর দুই নম্বর সেকশনের ১ নম্বর রোডের জি ব্লকের ১৯ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে বুধবার বেলা ২টার দিকে রকি নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্লাটে মেস করে রকিসহ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্র থাকতেন। তাদের তিনজন ঈদের সময় গ্রামে গেলেও রকি থেকে যায়। সে মানসিক চাপে ছিল বলে জানা গেছে।
মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিউল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, রকির বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলায়। তার বাবার নাম একেএম রেজাউল হক। ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। ওই বাসায় চারজন মিলে মেস করে থাকতেন তারা। ঈদে তার রুমমেটসহ সবাই গ্রামে চলে গেলেও তিন একাই বাসায় ছিলেন। বুধবার তাদের এক রুমমেট বাসায় ফিরে দরজা খুলে ভিতরে জানলার গ্রিলের সঙ্গে বেডশিট দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় রকিকে। পরে থানায় খবর দিলে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহটি পচে ফুলে গেছে। হতাশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে ২-৩ দিন আগে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে রকির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) এম এম মঈনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ওই যুবক দীর্ঘদিন মানসিক অবসাদে ছিল। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মৃত্যুর কারণ বোঝা যাবে।’