২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল অসংগতিপূর্ণ ও ত্রুটিযুক্ত অভিযোগ করে ফল বাতিল ও সংশোধন চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে।
ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য ৩১২ জন এবং কৃতকার্য ১২ শিক্ষার্থীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাওছার বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন।
এতে নতুন মেধা তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব, শিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও পরিচালক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে আবেদনে।
কার্যতালিকায় আসলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি ভার্চুয়াল বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানান রিটকারী আইনজীবীগণ।
এর আগে গত ১১ মে একই অভিযোগ করে ফল বাতিল চেয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ৪ এপ্রিল ঘোষণা করা হয়। ২২ মে শনিবার থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আবেদনের বরাতে ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী একজন পরীক্ষার্থী কোনো মেডিকেল কলেজে ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনি দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলে তার মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৭ দশমিক ৫ নম্বর কাটা যাবে। এছাড়া কোনো পরীক্ষার্থী ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকলে তার ৫ নম্বর কাটা যাবে। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, যেসব পরীক্ষার্থীদের ৭ দশমিক ৫ নম্বর কর্তন করার কথা, সেখানে মাত্র ৫ নম্বর কর্তন করা হয়েছে। আবার প্রথমবার পরীক্ষায় যেখানে কোনো নম্বর কাটার কথা নয়, সেখানে অনেক পরীক্ষার্থীদের ৫ নম্বর কর্তন করে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। পরীক্ষায় কৃতকার্য ১২ জন তাদের মেধাক্রম সঠিকভাবে নির্ণয় হয়নি অভিযোগ করে রিট আবেদন করেছেন।
আইনজীবী আরও জানান, সংরক্ষিত জেলা ও উপজাতি কোটার আসন পূরণেও ব্যাপক অসংগতি করা হয়েছে। ঢাকা জেলা কোটা আবেদনকারী পরীক্ষার্থীকে দেখানো হয়েছে মেহেরপুর জেলার পরীক্ষার্থী হিসেবে। উপজাতি কোটায় সংরক্ষিত আসনে অসংখ্য সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এসব ত্রুটি ও অসংগতির কারণে হাজার হাজার যোগ্য ও মেধাবী পরীক্ষার্থী মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।