অলিম্পিকের পথে জহির রায়হান

টোকিও অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন দেশের তিন অ্যাথলেট মোহাম্মদ ইসমাইল, জহির রায়হান ও শিরিন আক্তার। ইসমাইল ও শিরিন গত মাসে অনুষ্ঠিত নবম বাংলাদেশ গেমসের দ্রুততম মানব-মানবী। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে দেশসেরা জহির রায়হান করোনায় আক্রান্ত হয়ে খেলতে পারেননি বাংলাদেশ গেমসে। গতকাল অবশ্য ইসমাইল-শিরিনকে বাদ দিয়ে টোকিও অলিম্পিকের একমাত্র ওয়াইল্ড কার্ডের জন্য জহির রায়হানকে মনোনীত করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করার পুরস্কারস্বরূপ বিকেএসপির সাবেক এই স্প্রিন্টারকে বেছে নিয়েছে তিন সদস্যের সিলেকশন কমিটি।

দেশের পশ্চাৎপদ অ্যাথলেটিকসে জহির রায়হানের আবির্ভাব ঘটেছিল অমিত সম্ভাবনা নিয়ে। ২০১৭ সালে নাইরোবিতে যুব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ৪০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনালে নাম লিখিয়ে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। এরপর কৃতী স্প্রিন্টার গোলাম আম্বিয়ার ৩২ বছরের রেকর্ড ২০১৯ সালে ৪৬.৮৬ সেকেন্ডে ভেঙে দেন জহির। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে অলিম্পিকের জন্য। অথচ সিদ্ধান্তটা মোটেই সহজ ছিল না। অলিম্পিকের অতীত আসরগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল কেবল ১০০ মিটার স্প্রিন্টেই। গত রিও অলিম্পিকে বাংলাদেশের হয়ে ১০০ মিটারে খেলেছেন শিরিন আক্তার ও মেজবাহ আহমেদ। তার আগে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে দ্রুততম মানব মোহন খান সুযোগ পান। জহিরকে বেছে নেওয়ার ব্যাপারে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিব মন্টু বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কাছে আমরা তিনজনের নামই পাঠিয়ে বলেছিলাম একজনকে মনোনীত করতে। কিন্তু তারা আমাদেরকে একজন মনোনীত করতে বলেন। তিন সদস্যের সিলেকশন কমিটি সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে জহিরকে বেছে নিয়েছে।’ ওয়াইল্ড কার্ড নিশ্চিত হওয়ায় বেজায় খুশি জহির বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছি যাতে সেরা হয়ে থাকতে পারি। তাতে অলিম্পিকের স্বপ্নটাও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আজ আমার জন্য অনেক আনন্দের দিন।’