নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দুবৃর্ত্তের হামলায় পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সেক্রেটারি রুহুল আমিন সরকার (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা সদরের লক্ষণহাটি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রক্তাক্ত রুহুল আমিনকে প্রথমে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত রুহুল আমিন সোনাপাতিল গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক সরকারের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। শনিবার সকাল ১০টার দিকে রুহুল আমিন সরকার বাড়ি থেকে তার ছোট ভগ্নিপতি রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে একই এলাকার জয়ন্তিপুর গ্রামে দলিল লেখকদের একটি মিটিংয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে সমিতির আগামী নিবার্চন নিয়ে কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। লক্ষণহাটি মোড়ের কাছে পৌঁছিলে চারজন দুর্বৃত্ত তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে রুহুল আমিন সরকারকে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে। এ সময় রুহুল আমিন সরকার চিৎকার করে প্রানভিক্ষা চাইতে থাকেন।
এলাকাবাসী ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে দুর্বৃত্তরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থলের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা মাইক্রেবাসে পালিয়ে যায়।
পরে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক জুবায়ের, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. মুহসিন ও বাগাতিপাড়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, ডিবিসহ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড সদস্য সিদ্দিকুর রহমান জানান, রাস্তার ওপর কয়েকজন মিলে একজনকে মারধর করছে দেখে তারা এগিয়ে যেতে থাকলে হামলাকারীরা তাদের কাছে থাকা অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে চলে যায়।
বাগাতিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কী কারণে এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।