নবম-দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

দ্বিতীয় অধ্যায় : স্বাধীন বাংলাদেশ

সৃজনশীল

১. ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নারকীয় তাণ্ডব শুরু করে, তখন সৌরভের বাবা সুনীল মাঝি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। দেশের এ পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশকে, দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার অনেক বন্ধুও তার সঙ্গে শত্রুর মোকাবিলা করেন। দেশের জন্য সৌরভের বাবার এ ত্যাগের কথা শুনে তার বন্ধুরা তাকে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ক. মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?

খ. বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে গ্রেট ব্রিটেনের ভূমিকা কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।

গ. সৌরভের বাবার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে যাদের ভূমিকার প্রতিফলন ঘটেছে, তা আলোচনা করো।

ঘ. তুমি কি মনে করো, একমাত্র সৌরভের বাবার মতো ব্যক্তিরাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সার্থক করে তুলেছিলেন? উত্তরের সপক্ষে আলোচনা করো।

উত্তর

ক. মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।

খ. মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রেট ব্রিটেনের অবস্থান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে। ব্রিটেনের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা প্রচার করে বিশ্বব্যাপী জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীশিবিরের অবস্থা, বাঙালিদের সংগ্রাম ও যৌক্তিকতা তুলে ধরে। এ সময় ব্রিটেনের জনগণ বাংলাদেশকে অকুণ্ঠ সমর্থন দান করে। ব্রিটেন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের পক্ষে বিশ্বব্যাপী প্রচার ও জনমত সৃষ্টির প্রধান ঘাঁটি।

গ. উদ্দীপকে সৌরভের বাবার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ছাত্রসমাজের অংশগ্রহণের ভূমিকার প্রতিফলন ঘটেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের একটি বিরাট অংশ ছিল ছাত্র। এ ছাত্ররা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তা ছাড়া তাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা ছিল প্রশংসার দাবিদার। বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী যখন বর্বর গণহত্যা শুরু করে তখন বাংলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এবং পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বাংলাদেশ জন্মের বহু পূর্ব থেকে, সেই ১৯৪৭ সালের পর থেকে সব আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রভাগে ছিল ছাত্ররা। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। উদ্দীপকের সৌরভের বাবাও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসেবেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দেশের অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর একজন প্রতিনিধি।

ঘ. বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস একক কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির আন্দোলনের ইতিহাস নয়। সাড়ে সাত কোটি মানুষের সংগ্রামের এ ইতিহাস জনগণের মুক্তির ইতিহাস। তাই একক কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে এ যুদ্ধের কৃতিত্ব দেওয়া যায় না। সৌরভের বাবার মতো ব্যক্তিরা অর্থাৎ ছাত্ররাই কেবল বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকে সার্থক করে তুলেছিলেন এ কথা বলার সুযোগ নেই। কেননা মুক্তিযুদ্ধে বাংলার নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষিত, নিরক্ষর, পেশাজীবী, বেকার, পুলিশ, আনসার, ইপিআর সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীর সদস্য এক কথায় আপামর জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সব ধরনের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল এই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা। সবাই মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। যে যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন দেশটা স্বাধীন করার জন্য। তবে ছাত্রসমাজ ছিল সে সময়ের সবচেয়ে অগ্রগামী দল। ছাত্ররা শারীরিক ও মানসিক যৌবন শক্তির অফুরন্ত ভাণ্ডার। স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রদের পিছুটান থাকে না। অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারাই সব সময় সবার আগে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তাদের সংখ্যা বেশি থাকবেÑ এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু একমাত্র তাদের জন্যই দেশটা স্বাধীন হয়েছে এ কথা বলা যাবে না। মুক্তিকামী সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্যই এ দেশটা স্বাধীন হয়েছিল। চিহ্নিত রাষ্ট্রদ্রোহী রাজাকার, আলবদর, আলশামস ছাড়া সবাই দেশটাকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন করেছিল।