কক্সবাজারে কর্মহীন ৫০ হাজার শ্রমজীবী

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রথম ঢেউ শেষে দেশে চলাচল ও জীবিকায় কিছুটা গতি ফিরলেও পর্যটনশিল্পে যুক্তদের চোখে এখনো অন্ধকার। বৈশ্বিক এ মহামারীর প্রভাবে কক্সবাজারে পর্যটন খাতকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করা ৫০ হাজারের বেশি নারী-পুরুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সৈকত ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে পর্যটকের আনাগোনা না থাকায় দিনের পর দিন খালি পড়ে আছে সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল। একই অবস্থা কক্সবাজারের দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোরও। এমন স্থবিরতায় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি লোকসান হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে দেশের জেলাগুলোর মধ্যে আক্রান্তের দিক থেকে বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পাঁচ নম্বরে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এবং জেলার বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজ। এর বাইরে তিন শতাধিক রেস্টুরেন্ট, বিপণিবিতান, সৈকতসংলগ্ন শপিং মল, সৈকতের কিটকট, ট্যুর অপারেটরদের কার্যক্রম, বিচ বাইকসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজার বিচ কিটকট মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে সৈকতে কিটকট মালিক-কর্মচারীসহ এক হাজার মানুষ বেকার। তাদের কোনো প্রকার আয়-রোজগার নেই। ইতিমধ্যে অনেকেই অর্থসংকটে পড়েছেন। আমরা সবাই অসহায় হয়ে পড়েছি।’

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজগুলোর কর্মকর্তাসহ এক লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এরা সবাই প্রশিক্ষিত এ পর্যটনশিল্পের জন্য। পরে এই শিল্পে নতুন শ্রমিক তৈরি করতে অনেক বেগ পেতে হবে।’

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্যুয়াব) সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘পর্যটন খাতে যে স্থবিরতা নেমে এসেছে তা পুষিয়ে উঠতে অনেক বছর সময় লেগে যাবে। তাই করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে যতদ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন চালু করলে পর্যটনশিল্পে জড়িতরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।’

কক্সবাজারে পর্যটনশিল্পে প্রতিদিন ৫ কোটি টাকারও বেশি লোকসান হচ্ছে তথ্য দিয়ে কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ রোড হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুখিম খান বলেন, ‘গত দুই মাসে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি লোকসান হয়েছে। বেকার হয়ে পড়ছে অন্তত অর্ধলাখ মানুষ।’

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘আমরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি। আমাদের সংগঠনের ২৬০টি হোটেলে প্রতি মাসে ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, ‘ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটন খুলে দেওয়া হবে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ আপাতত কক্সবাজারে পর্যটন খুলে দেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনা নেই।’