ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় স্ত্রীকে পেট্রল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী কাজল ভূঁইয়া (৫০) আটক করা হয়েছে।
সোমবার আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান। সিআইডির একটি দল রবিবার বাংলাদেশ-ভারত জাফলং সীমান্ত থেকে তাকে আটক করে।
আটক কাজল ভূঁইয়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আনোয়ারপুরের বাসিন্দা মৃত আনু ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভূঁইয়ার ভাতিজা। সে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে কাজল ভূঁইয়া গা ঢাকা দেয়।
নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেন বোনকে হত্যার অভিযোগে আখাউড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিল্লাল হোসেন গত ১৮ মে এই প্রতিবেদকে বলেন, কাজল ভূঁইয়া ও আমার বোন ডলির মধ্যে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। ঈদুল ফিতরের আগের দিন রাতেও সাংসারিক বিষয় নিয়ে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরই জের ধরে ঈদের দিন সকালে কাজল আমার বোনকে মারধর করে। একপর্যায়ে তার ভাতিজা রামিমকে মোটরসাইকেল থেকে পেট্রল আনতে বলে। রামিম বোতলে পেট্রল এনে দিলে কাজল আমার চোখের সামনে আমার বোনের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তখন আমি নিজে এগিয়ে যেতে পারিনি। চিৎকার চেঁচামেচি করলেও কেউ আমার বোনকে রক্ষা করতেও এগিয়ে আসেনি। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে প্রথমে সুইসাইড বলে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য আসামির লোকজন চেষ্টা করেছিল। তাদের চেষ্টা ব্যর্থ করে পুলিশ ঘটনা প্রকৃত তথ্য বের করে এনে নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
তিনি বলেন, থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল হোসেন মামলা রুজুর পরপরই ঘটনাস্থল থেকে একটি গর্তে লুকানো পেট্রলের আগুনে পোড়া কাপড়-চোপড়, পেট্রল বহনে ব্যবহৃত লাল প্লাস্টিক কন্টেইনার, যে মোটরসাইকেল থেকে পেট্রল বের করে কন্টেইনারে নিয়ে আগুন লাগানো হয়েছিল সেই লাল রঙের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করে জব্দ করেছে।