তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের কঠিনতম ফুটবল লিগ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। সেই লিগে এক দশক, শতাধিক গোল ও অসংখ্য স্মৃতি তৈরি করে প্রিয় ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় জানাচ্ছেন তাদের ১০ নম্বর জার্সিধারী সার্জিও আগুয়েরো। ইতিহাস বারবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। রবিবার আবারও এক দশক আগের চিত্রই দেখা গেল সিটির ইতিহাদ স্টেডিয়ামে। এক দশক আগে ২০১১’র ১৫ আগস্ট সোয়ানসি সিটির বিপক্ষে ইপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচে ৬০ মিনিটের মাথায় নেমে জোড়া গোল করেছিলেন আগুয়েরো। রবিবারও পরিবর্তিত হিসেবে ৬৩ মিনিটে নেমে জোড়া গোল করলেন কুন। পাশাপাশি ভেঙে দিলেন প্রিমিয়ার লিগে এক দলের হয়ে রুনির করা সর্বাধিক ১৮৩ গোলের রেকর্ডও।
প্রথম মৌসুমেই সিটি সমর্থকদের পরের দশকে কী ঘটতে চলেছে তা ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আগুয়েরো। শেষ রাউন্ডের দিন অন্য মাঠে সান্ডারল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় ৮৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। জিততে হলে জয় চাই ম্যানসিটির। কিন্তু ১-২ গোলে পিছিয়ে পড়া সিটি ইনজুরি টাইমে সমতায় ফেরে। আর ৯৩.৪২ মিনিটে গোল করে ৪৪ বছর পর সিটিকে শিরোপা এনে দেওয়া আগুয়েরোর জার্সি খুলে উদযাপনের চিত্র প্রিমিয়ার লিগের গ্যালারিতে চিরকালের মতো জায়গা করে নিয়েছে। এরপর মৌসুমের পর মৌসুম কেটেছে, বদলেছে ম্যানেজার, বদলেছে খেলার ধরনও। বদলাননি শুধু আগুয়েরো আর তার মুখের শিশুসুলভ হাসি।
রবিবার আবার জোড়া গোলে এভারটনের বিপক্ষে ৫-০’র জয় এনে দিলেন শিরোপাজয়ী সিটিকে। খেলা শেষে আনন্দের চেয়ে আবেগঘন পরিবেশটাই বেশি ছিল ইতিহাদ স্টেডিয়ামে। প্রিয় সতীর্থকে সম্মান দিয়ে বিদায় জানান সবাই। আগুয়েরোর কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন কোচ পেপ গার্দিওলা। আগুয়েরো বলেন, ‘আমি যখন এখানে এসেছিলাম, প্রথম শিরোপাটি (২০১২) গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার এবং দলের জন্য। সিটি এরপর থেকে আরও শিরোপা জিততে শুরু করে। আমি খুশি, কারণ এক ক্লাবে দশ বছর কাটানো সহজ নয়।’ গার্দিওলা আগুয়েরো সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা ওকে অনেক ভালোবাসি। আমাদের সবার জন্য ও অনেক বিশেষ একজন মানুষ। আমরা তার বিকল্প পাব না। সব সময় নিজের জাত চিনিয়েছে এখানে।’ কয়েক দিন আগেই খবর হয়েছে দু’বছরের জন্য বার্সেলোনাতে যাচ্ছেন আগুয়েরো। গার্দিওলা নিজেও জানালেন সে কথা, ‘সম্ভবত আমি একটি গোপন বিষয় প্রকাশ করছি। সে (আগুয়েরো) সম্ভবত আমার হৃদয়ের ক্লাব বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি করার কাছাকাছি আছে। সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় (লিওনেল) মেসির পাশে খেলতে যাচ্ছে সে।’
আগুয়েরো সিটি ছাড়ছেন পাঁচটি লিগসহ মোট ১৫টি মুখ্য ট্রফি, ১৮৪টি লিগ গোল ও ক্লাবের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (মোট ২৬০ গোল) হয়ে। সিটিজেনদের ইউরোপের অন্যতম সেরা হয়ে ওঠার উত্থানের মূল কা-ারি তাই তিনিই। এখনো এক ম্যাচ বাকি আছে আগুয়েরোর, সিটির ইতিহাসের হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে শেষ একবার মাঠে নামতে পারেন কুন।