ভারতে প্রথমবারের মতো শিশুর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ওই শিশু রাজস্থানের বিকানেরের বাসিন্দা।
এ ছাড়া গুজরাটের আহমেদাবাদে বছর পনেরোর এক কিশোরের শরীরেও মিলেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস।
ভারতে ২৯টি রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারী ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটিতে ৯ হাজারের বেশি মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে গুজরাটে। সেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ২ হাজার ৮৫৯ জন। দ্বিতীয় স্থানে মহারাষ্ট্র। সেখানে আক্রান্ত ২ হাজার ৭৭০ জন। অন্ধ্রপ্রদেশে ৭৬৮ জন এবং মধ্যপ্রদেশে ৭৫২ জন এই ছত্রাকের কবলে পড়ে চিকিৎসারত।
রোগটিতে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ। কভিড থেকে সেরে ওঠার ১০ থেকে ১৮ দিনের মধ্য এই ছত্রাক আক্রমণ করছে মানুষকে।
রোগটির উপসর্গ: মাথাব্যথা, নাক বন্ধ, শ্বাসকষ্ট, নাকের ওপর কালো বা ধূসর বর্ণ, মুখের মধ্যে তালু বিবর্ণ, জ্বর, মুখের এক পাশ ফুলে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তির তারতম্য, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, কাশিতে রক্ত পড়া এবং বুকে ব্যথা।
করণীয় : কভিড-পরবর্তী ডায়াবেটিস ও স্টেরয়েড থেরাপির রোগীরা নিয়মিত ব্লাড সুগার চেক করে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ও পুষ্টিবিদের পরামর্শে সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলতে হবে। ফলের মৌসুম, ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত আম, কাঁঠাল, তরমুজ, লিচুর মতো মিষ্টি ফল খাবেন। শরীরের কোনো ক্ষতস্থান উন্মুক্ত রেখে বাইরে যাওয়া যাবে না, ঘরে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া নতুন এ রোগ সম্পর্কে কোনো তথ্য অনুসরণ করা বোকামি হবে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কভিড রোধে পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।