শেখ হাসিনার বহরে হামলা: দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের জামিন স্থগিত

২০০২ সালের আগস্টে সাতক্ষীরায় তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সাত নেতাকর্মীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত হয়ে গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দকীর ভার্চুয়াল চেম্বার আদালত এ স্থগিতাদেশ দিয়ে এ বিষয়ে রবিবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক আদেশে আসামি গোলাস রসুল, আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার, জহিরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলামকে জামিনের আদেশ দেয়।

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুস সামাদের বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছিল সাড়ে চার বছর করে। আর বাকিদের সাজা হয় চার বছর করে। পরে হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

ভার্চুয়ারি শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৮ জনের জামিনের আবেদন বিচারিক আদালতে নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আরো ১১ জনের বিষয়ে রবিবার সিদ্ধান্ত দেবে হাইকোর্ট।

আলোচিত এ মামলায় বিচার শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক রায়ে সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে এবং বাকি ৪৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সফরে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার সময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে এবং নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত গাড়িবহর লক্ষ করে গুলি ছোড়া, বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাংবাদিক আহত হন। এ ঘটনায় মামলার পর তদন্ত শেষে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৭ মে সংশ্লিষ্ট আদালতে হত্যা চেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।