জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে মোবাইল টেলিকম কোম্পানি রবির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি নজরুলের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার এবং ঠিকমতো রয়্যালটি না দেয়ার অভিযোগও তুলেছেন নজরুলের নাতনি খিলখিল কাজী।
বৃহস্পতিবার এক ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে খিলখিল কাজী অভিযোগ করেন, রবির ফেসবুক পেজে কবি নজরুলের জন্মদিনে একটি পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তরুণ বয়সের একটি ছবি।
নজরুলের নাতনি লিখেছেন, এর মাধ্যমে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই কবিকেই অপমান করা হলো। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে খিলখিল কাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, রবিসহ বিভিন্ন মোবাইল টেলিকম কোম্পানি অনেক বছর ধরেই নজরুলের গান, কবিতা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু ঠিকমতো রয়্যালটি দিচ্ছে না। রবি এবার জন্মদিনে একটি পোস্টার প্রকাশ করে নজরুলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে, কিন্তু ছবি দিয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। এর মধ্য দিয়ে দুই কবিকেই অপমান করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সবার প্রতিবাদ করা উচিত। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।
ফেসবুক লেখনীতে খিলখিল কাজী রবির সেই পোস্টের একটি স্ক্রিনশটও দিয়েছেন, যদিও সেই পোস্টটি রবির ফেইসবুক পেজে পরে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পোস্টারটি অন্য কেউ বানিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে, নাকি রবির ভুল, সে বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ উঠেছে, পোস্টটি সমালোচনার মুখে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রবির জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, নজরুলের বিভিন্ন সৃষ্টিকর্ম অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছেন বলে বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, সৃষ্টিকর্ম নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। নজরুলের বিভিন্ন সৃষ্টিকর্মও ব্যবহার করা যাবে। তবে অবশ্যই প্রাপ্য রয়্যালটি দিতে হবে। এখন নজরুলের উত্তরাধিকার তো সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ পেলে কপিরাইট অফিস আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করবে।