গৃহবধূর দেবর ও ছোট ভাইয়ের হাতে খুন হন আব্দুর রহমান

গৃহবধূর সাথে সম্পর্কের জের ধরে তার দেবর ও ছোট ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আব্দুর রহমান (৩৮) নামের এক বেকার যুবক।

শনিবার দুপুরে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান। নিহত আব্দুর রহমান উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চর বেলতৈল পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত শামছুল প্রামাণিকের ছেলে।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশ ওই গ্রামের মৃত বাহাদুর প্রামাণিকের ছেলে আবুল কালাম (৪৫), আব্দুস সালাম (৫০), শহিদুল প্রামাণিকের ছেলে মনিরুজ্জামান (৪০), আয়শা খাতুন (৩০), তার দেবর নজরুল ইসলাম (৩৫) ও ছোট ভাই আনিছ প্রামানিককে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আয়শা খাতুন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ দুপুরে শাহজাদপুর চৌকি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানির কাছে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সম্পর্কের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিহতর ভাতিজা বাঁধন প্রামাণিক ও এলাকাবাসী জানান, নিহত আব্দুর রহমান ও নজরুল ইসলাম সম্পর্কে খালাতো ভাই ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এ সুবাদে নজরুলের বাড়িতে নিহত আব্দুর রহমানের যাতায়াত ছিল। অন্যদিকে নজরুলের ভাই সাইফুল ইসলাম এক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।

সূত্র জানায়, সম্পত্তির লোভে নজরুল তার বিধবা ভাবি আয়শা খাতুনকে বিয়ের চেষ্টা করে। কিন্তু আয়শা খাতুন এতে রাজি না হওয়ায় তার এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আয়শা খাতুন যেকোনো কাজে রহমানের সহায়তা নিত এবং প্রয়োজনে তাকে সাথে নিয়ে যেত। ফলে রহমানের সঙ্গে আয়শার ঘনিষ্ঠতা দিন দিন বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি নজরুল টের পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়।

সে বোনের সাথে সম্পর্কের কথা জানিয়ে আনিছকেও রহমানের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলে। আনিছকে সাথে নিয়ে রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করে নজরুল।

ওসি শাহিদ মাহমুদ খান জানান, গত ১৯ মে রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা আয়শাকে দিয়ে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে তারা আরও কয়েকজন মিলে আব্দুর রহমানকে নির্মম ভাবে নির্যাতন করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর রহমানের লাশ অ্যাসিডে পুড়িয়ে পাশের ধানখেতে ফেলে দেয়।

চার দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৩ মে সকালে কৃষকেরা ধান কাঁটতে মাঠে যাওয়ার সময় ক্ষতবিক্ষত একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পায়ের সেন্ডেল, পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি দেখে রহমানের লাশ শনাক্ত করে।

তিনি বলেন, ওই দিনই রহমানের বড় ভাই শাহজাহান প্রামাণিক বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ আবুল কালাম, আব্দুস সালাম ও মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই বাছাই শেষে পুলিশ হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শুক্রবার গভীর রাতে আয়শা খাতুন, তার দেবর ও নিহত আব্দুর রহমানের বন্ধু নজরুল ইসলামও তার আপন ছোট ভাই আনিছ প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করে।