গত ২৩ মে জনপ্রিয় আমেরিকান লেখক ও শিল্পী এরিক কার্ল মারা গেছেন। নিজের ইলাস্ট্রেশনে তার লেখা শিশুতোষ ৭০টি বই ৬৬টি ভাষায় ১৭০ মিলিয়নেরও বেশি বিক্রি হয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিজ্ঞাপন বিভাগে কাজ করা এই মানুষের শিল্পী হয়ে ওঠার বর্ণাঢ্য জীবনগাথা লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
রঙিন কাগজের স্টুডিও
১৯৬৮ সালে আমেরিকায় একটি শিশুতোষ টেলিভিশন ধারাবাহিকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আধাঘণ্টা সময়ের এই ধারাবাহিকের উপস্থাপক ছিলেন ফ্রেড রজার্স। উপস্থাপকের নামানুসারেই ধারাবাহিকের নাম ‘মিস্টার রজার্স নেইবারহুড’। শুরুতে ২ থেকে ৫ বছর বয়সীদের কথা মাথায় রেখে এই ধারাবাহিক তৈরি করা হয়েছিল। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে যাওয়ার পরে দেখা গেল আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই এই ধারাবাহিকের ভক্ত। ধারাবাহিকের বৈশিষ্ট্য ছিল নির্দিষ্ট কোনো স্টুডিওতে শিল্পীদের ডেকে পাঠানো নয় বরং স্বয়ং উপস্থাপক চলে যাবেন তার স্টুডিওতে। ফলে ফ্রেডের প্রত্যেক শো নতুন চমক নিয়ে উপস্থিত হতো দর্শকদের সামনে। কাজের ধারাবাহিকতায় উপস্থাপক ফ্রেড রজার্স উপস্থিত হন একজন শিল্পীর স্টুডিওতে। বয়োবৃদ্ধ সেই শিল্পী ফ্রেডকে উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেন। তার স্টুডিওতে ঢুকেই দেখা গেল সারি সারি টেবিলের ওপরে রঙিন কাগজ রাখা, পাশে বিশাল তাকে বইয়ের সারি। তা দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে এটি একজন চিত্রশিল্পীর স্টুডিও। শিল্পীর গায়ে সাদা এপ্রোন জড়ানো। যদিও কবে সেই সাদা এপ্রোন সাদা ছিল বোঝা বড় দায়। রং-কালি-ঝুলি মেখে একাকার সেই এপ্রোন। টিভি শোয়ের পুরো সময় জুড়ে শিল্পী ঘুরে ঘুরে দেখালেন তার কর্মযজ্ঞ। একটি টিস্যু কাগজে রং করে সেই কাগজ শুকিয়ে, ব্লেড দিয়ে কেটে আরেক কাগজের ওপরে বসিয়ে বানিয়ে ফেলেন কাগজ কোলাজের চমৎকার সব শিল্পকর্ম। শিশুদের জন্য লিখতেন বলে উজ্জ্বল রং ব্যবহার করতেন তিনি। রং করার পর কাগজের যে অংশটুকু রয়ে যায় সেগুলো সংরক্ষণ করার জন্য রয়েছে আরেকটি তাক। একই রঙের সমস্ত সেই ড্রয়ারে সংরক্ষিত থাকে। কাজ করতে করতে তিনি জানান, ‘সারা দিন আমার ছবি আঁকতে ভালো লাগে। ছেলেবেলায় আমার বাবা আমাকে ছবি এঁকে দেখাতেন। নার্সারিতে পড়ার সময় আমার শিক্ষক দেখলেন আমার ছবি আঁকার প্রতি ভীষণ আগ্রহ রয়েছে। তিনি সে কথা আমার বাবা-মাকে জানালে আমার বাবা-মা সবাই আমার আগ্রহের প্রতি গুরুত্ব দেন। ছবি আঁকার জন্য আমার মূল প্রেরণার উৎস ছিল বাড়ি।’
সেই শিল্পী আর কেউই নন এরিক কার্ল। আমেরিকান শিল্পী এরিক কার্ল তার শিশুতোষ লেখার জন্য ভীষণ জনপ্রিয়। শিশুতোষ গল্পের আলাদা মাত্রা যোগ করার জন্যে আমেরিকায় তার নাম স্মরণ করা হয়। এরিক কার্ল এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে নিজের ইলাস্ট্রেশনে তার লেখা শিশুতোষ ৭০টি বই ৬৬টি ভাষায় ১৭০ মিলিয়নেরও বেশি বিক্রি হয়। গত ২৩ মে নর্দাম্পটনে তার গ্রীষ্মকালীন স্টুডিওতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় গুণী এই শিল্পীর তুলি একেবারের মতো থেমে যায়। মৃত্যুর খবরে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পিটার এইচ রেনল্ডস টুইটারে পোস্ট করেন, ‘স্বর্গ বুঝি আরও রঙিন হয়ে উঠছে। কার্ল তার কাজে নিজস্ব ছাপ রেখে গেছেন। সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে গিয়েছেন। চারপাশের সবাইকে একইরকম কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে গেছেন।’
এরিক কার্ল
১৯২৯ সালের ২৫ জুন নিউ ইয়র্কের সিরাকিউকে জন্মগ্রহণ করেন এরিক কার্ল। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে জার্মানিতে ফিরে যান। ছবি আঁকার ব্যাপারে তার বিশেষ আগ্রহের কথা বুঝতে পারেন তার নার্সারির স্কুল শিক্ষক। এই শিক্ষক ছিলেন তার জীবনের রূপকার। বহুবার বহু জায়গায় তিনি এই স্কুল শিক্ষকের কথা স্মরণ করেছেন। শেষ জীবনে তার ভাষ্য ছিল, ‘আমি আমার এই শিক্ষকের চেহারা মনে করতে পারি না। কিন্তু তার নাম মনে করলেই আমার একটি উষ্ণ অনুভূতি হয়।’ পরিবার থেকে ছবি আঁকার ব্যাপারে বিশেষ সহায়তা পেয়েছেন তিনি। জার্মানিতেই তার শিক্ষাজীবন সমাপ্ত হয়। স্টুটগার্টের স্টেট অ্যাকাডেমিতে চিত্রকলায় স্মাতক হন। কিন্তু জার্মানিতে তার মন টেকেনি। আমেরিকায় ফিরে আসার জন্য ব্যাকুল ছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালে মাত্র ৪০ ডলার সঞ্চয় সঙ্গে নিয়ে তিনি নিউ ইয়র্কে ফিরে আসেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রচার বিভাগে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাঝখানে কোরিয়ার যুদ্ধের সময় আমেরিকান সেনাবাহিনী তাকে যুদ্ধে পাঠায়। যুদ্ধ শেষে আবার নিউ ইয়র্ক টাইমসে যোগ দেন তিনি। নিজের কাজকে খুবই ভালোবাসতেন। কিন্তু গতানুগতিক কোনো কিছু আর টানতে পারছিল না তাকে। বিজ্ঞাপনের কাজে প্রায়ই তাকে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে বাইরে যেতে হতো, তাদের সঙ্গে রাতের খাবার খেতে হতো। অফিসের মিটিং ও কর্মক্ষেত্রে রোজকার গোলমেলে অফিস-পলিটিক্স তো আছেই। অফিস আর ক্লায়েন্টে যেন তার জীবন আটকে যাচ্ছিল। অসহ্য হয়ে উঠল প্রতিদিনের এই রুটিন। তার মনে পড়ল জীবনের কোনো এক সময়ে শুধু ছবি আঁকতে চেয়েছিলেন তিনি। নতুন করে সব ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রিয় শিক্ষক তাকে প্রাণভরে বেঁচে থাকতে বলেছিলেন। সঙ্গে আরও বলেছিলনে, ‘নতুন করে শুরু করো, এগিয়ে যাও, বিস্মিত হতে ভুলে যেয়ো না।’ চাকরি ছেড়ে দিলেন তিনি। ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। কিন্তু ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার থেকে যে শিশুতোষ বইয়ে গিয়ে থিতু হতে হবে কে ভেবেছিল তা?
এরই মধ্যে একদিন শিক্ষাবিদ ও লেখক বিল মার্টিন জুনিয়র তার একটি বইয়ের কাজে এরিক কার্লের সহযোগিতা চান। ‘ব্রাউন বিয়ার, ব্রাউন বিয়ার হোয়াট ডু ইউ সি’ বইয়ে ইলাস্ট্রেশনে কাজ করতে গিয়ে এরিক কার্লের তুলি যেন নতুন করে জীবন পেল। ১৯৬৭ সালে বইটির কাজ করতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া নিজেকে খুঁজে পেলেন তিনি। শিশুদের জন্য এই বইটি তৈরি করতে গিয়ে তার বারবার ছোটবেলায় স্কুলের কথা মনে পড়ছিল। বড় একটি চাদর বিছিয়ে রং করতে থাকা ছোটবেলার স্মৃতিই হয়তো বইটিকে এত বেশি আকর্ষণীয় করতে পেরেছিল। শিশুদের ছুঁয়ে যেতে গেলে তো নিজের ভেতরের শিশুকে জাগিয়ে তুলতে হয়। সবসময় চেয়েছিলেন বিশেষ কিছু তৈরি করতে যা শিশুদের আনন্দ দেবে। অবশেষে ১৯৬৯ সালে নিজের বই ‘দ্য ভেরি হাংরি ক্যাটারপিলার’-এ হাত দেন। বইটি আঁকার সময় বিজ্ঞাপনী অভিজ্ঞতা থেকে সঞ্চিত সমস্ত জ্ঞান ঢেলে দিয়েছিলেন তিনি। সে সময় শিশুতোষ বই প্রকাশে এরকমভাবেও যে গল্প বলা সম্ভব এই ধারণা ছিল একেবারে নতুন। তিনি জানান, ‘শব্দের মাধ্যমে শিশুদের ছুঁয়ে দেখার ক্ষমতা নেই আমার। আমি তাই রং দিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি।’ গল্প বলার ক্ষেত্রে তার ভাষা সহজ ও সাবলীল। এই বই প্রকাশের পরপরই প্রকাশকদের নজর কাড়তে সক্ষম হন তিনি। প্রকাশক অ্যান বেনেডিউস তাকে সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দিতে পেরেছিলেন। সারা জীবন তিনি অ্যানের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে গিয়েছেন। উজ্জ্বল রঙের ছাপে শিশুদের মন বুঝতে সক্ষম ছিলেন তিনি। নিজের কাজ করার জন্য আমেরিকার তার সমসাময়িক কোনো শিল্পীকে খুঁজে পাননি তিনি। তাই নিজের গল্প বলার জন্য নিজেই করেছেন ইলাস্ট্রেশনের কাজ।
লেখক ও শিশু সাহিত্য বিশেষজ্ঞ লিওনার্ড মার্কাস বলেন, ‘তিনি একজন ডিজাইনার। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি রং, কোলাজ ও রচনা বুঝতেন। নিজস্ব দক্ষতার একটি দুর্ধর্ষ অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি।’ ‘বিজ্ঞাপন’ ও ‘শিশুদের জন্য ছবি নিয়ে বই’ এই দুটো ধারার শিল্পের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। আপনি শিশুটির জন্য বই লিখলে একটি চরিত্র ও লক্ষ্যের মধ্যে আটকে ফেলতে চান। যাতে বাদবাকি সবকিছু উপেক্ষা করা যায়। এরিক ডিজাইন চ্যালেঞ্জ হিসেবে যা কিছু পেয়েছিলেন বইয়ে তার সবকিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন।
এরিক কার্লের সবচেয়ে জনপ্রিয় বই ‘ভেরি হাংরি ক্যাটারপিলার’। ১৯৬৬ সালে প্রকাশের পরপরই ভীষণ সাড়া ফেলে দেয় এই বইটি। প্রকাশনা জগতের সমস্ত প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে এখনো পর্যন্ত বিক্রির চার্টে রয়েছে বইটি। এই একটি বইই বিশ্বব্যাপী ৫০ মিলিয়নেরও বেশি বিক্রি হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রতিটি শিশু বছরে গড়ে নয়বার করে এই বই পড়ে। কার্লের কর্মজীবন তার বইয়ের নায়ক রেভেনাসের মতো, যে কিনা অবশেষে রূপান্তরিত হতে পেরেছিল। জার্মান ম্যাগাজিন স্টার্নকে তিনি জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। সেই শব্দগুলো যেন তার প্রতিনিধি ছিল। ‘শুঁয়োপোকার মতো একটি ছোট এমনকি কুৎসিত পোকা, একদিন বড় ও সুন্দর হবে। আপনার ডানা বা আপনার প্রতিভা, উন্মোচিত হবে এবং আপনি ভবিষ্যতে উড়ে বেড়াবেন।’
এরিককে নিয়ে মার্কাস আরও বলেন, ‘বেশিরভাগ মানুষ মনে করে যে শিশুদের জন্য গল্প লেখা সহজ। কিন্তু তাদের গল্পে এটি একটি সংক্ষিপ্ত উপায়ে জীবনের গল্প বলতে হয়। শেষ কথা হচ্ছে: গল্পের মধ্য দিয়ে শিশুরা বড় হয়ে ওঠে। এটি খুবই মূল্যবান।
নিজের কাজ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে আগে থেকেই ভেবে রাখা কোনো আইডিয়া নেই। আমার পৃথিবীকে ছোট ছোট ডট ছাড়া আমি কল্পনাই করতে পারি না। আমার ব্যবহৃত রং ইম্প্রেশনিস্ট, আমার কাজ এক্সপ্রেশনিস্ট।’
কেন গল্প বলায় আগ্রহী হলেন এমন প্রশ্নের দারুণ উত্তর দিয়েছেন তিনি। ‘আমার অনেক বই দিয়ে শিশুদের কাছে বাড়ি ও স্কুলের মধ্যে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছি। আমার কাছে বাড়ি হচ্ছে উষ্ণতা, নিরাপত্তা, খেলনা, হাত ধরে রাখার প্রতিনিধিত্ব করে। স্কুল শিশুর জন্য একটি অদ্ভুত ও নতুন জায়গা। সদ্য স্কুলে যাওয়া একটি শিশুর কাছে এটা কি খুব সুখের জায়গা হবে? স্কুলে নতুন লোক আছে, একজন শিক্ষক, সহপাঠী আছে তারা কি বন্ধুত্বপূর্ণ হবে?
আমি বিশ্বাস করি বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়া শৈশবের দ্বিতীয় বৃহত্তম আঘাত। অবশ্যই প্রথম আঘাতের নাম ‘জন্মগ্রহণ করা’। প্রকৃতপক্ষে, দুটো ক্ষেত্রেই একটি জিনিস থাকে সেটা হলো আমরা একটি উষ্ণতা ও সুরক্ষার জায়গা ছেড়ে অজানার পথে চলে যাব। ‘অজানা’ আসার সময় এর সঙ্গে ভয় নিয়ে আসে। আমার বইগুলোতে, আমি এই ভয়কে প্রতিহত করার চেষ্টা করি। একে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়ে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করি। আমি বিশ্বাস করি যে শিশুরা স্বাভাবিকভাবে সৃজনশীল ও শিখতে আগ্রহী। আমি তাদের দেখাতে চেয়েছিলাম শেখার প্রক্রিয়া আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক।’
এরিক কার্ল মিউজিয়াম অব পিকচার বুক আর্ট
আশির দশকের শুরুর দিকে এরিক কার্ল ও তার স্ত্রী জাপান ভ্রমণ করেন। সেখানে তারা বেশ কয়েকটি ছবির বইয়ের জাদুঘর পরিদর্শন করেন। জাপানে শিশুতোষ ছবির বইয়ের মিউজিয়াম দেখে খুবই অনুপ্রাণিত হন। ফিরে আসার পরে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সে রকম একটি জাদুঘর তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। যা ছবি সংবলিত বইগুলোকে শিল্পকর্ম হিসেবে সম্মান দেবে। সঙ্গে সঙ্গে বই ইলাস্ট্রেশন করা শিল্পীদেরও সম্মান দেবে। এরিক তার জাদুঘরের জন্য আমহাস্টের হ্যাম্পশায়ার কলেজ ক্যাম্পাসের পাশে একটি জমি বেছে নিয়েছিলেন। স্থাপত্য সংস্থা জাস্টার, পোপ ও ফ্রেজিয়ার ৪০ হাজার বর্গফুটের এই ভবনটি ডিজাইন করেছে। এরিকের এই দারুণ কাজে সাড়া দিয়ে শিশুতোষ বইয়ের সমর্থক জনগণ এরিকের ফান্ডে দান করেন। এরিকের এই জাদুঘরে স্থায়ী সংগ্রহে রয়েছে ৮ হাজার ৫০০টি ছবি, তিনটি আর্ট গ্যালারি, একটি আর্ট স্টুডিও, একটি থিয়েটার, ছবি সংবলিত বই, গ্রন্থাগার এবং শিক্ষাবিদ ও স্কুলছাত্রদের জন্য নিয়মিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। এছাড়াও সারা বছর দেশের শিক্ষাবিদদের জন্য পেশাদার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। ২০০২ সালের ২ নভেম্বর উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর ৮ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী জাদুঘর ঘুরে দেখেছেন। যাদের ভেতরে প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি স্কুলছাত্র। ১০০’র বেশি প্রদর্শনী ও ২৫০টিরও বেশি কর্মশালা করেছে জাদুঘর কর্র্তৃপক্ষ। ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এরিক কার্ল জানান, ‘আমি আশা করি এটি উন্নতি ও সমৃদ্ধি অব্যাহত রাখার একটি জায়গা হবে। আরও অনেক বছর এই জাদুঘরটি ছবি সংবলিত বইয়ের শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা আরও আশা করি জাদুঘরটি দর্শনার্থী, শিক্ষাবিদ, শিল্প শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য শেখার জায়গা হিসেবে অব্যাহত থাকবে। এটি একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাকেন্দ্র ও অ্যাকাডেমিক সম্পদ।’