তামাকজনিত মৃত্যু ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি তামাকে সুনির্দিষ্ট করারোপ ও আইন সংশোধনের দাবি করেছে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রগতির জন্য জ্ঞান-প্রজ্ঞা।
সোমবার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠী পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতি অধিক সংবেদনশীল। তামাকপণ্যের দাম বাড়লে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাকের ব্যবহার, তামাকজনিত মৃত্যু ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি অধিকহারে হ্রাস পায়। তাই তামাকে বর্ধিত করারোপ একটি দরিদ্র-বান্ধব পদক্ষেপ।
এবিএম জুবায়ের বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ অর্জন করতে হলে সিগারেটসহ সকল তামাকপণ্যের দাম সুনির্দিষ্ট করারোপের মাধ্যমে বৃদ্ধি করে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, পাশাপাশি বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বিলুপ্তসহ সকল পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও পাবলিক পরিবহনে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত এবং বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করতে হবে।
তামাক কোম্পানির ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি’ বা সিএসআর কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা এবং প্যাকেটবিহীন জর্দা-গুল বিক্রয় নিষিদ্ধ করারও দাবি জানান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক।
তিনি আরও বলেন, ই-সিগারেট এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি) এর মতো ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টসমূহ আমদানি ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার বৃদ্ধিসহ তামাকপণ্য মোড়কজাতকরণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপকে আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বছর তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘Commit To Quit’। বাংলাদেশে দিবসটি উদ্যাপিত হচ্ছে- ‘আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি, জীবন বাঁচাতে তামাক ছাড়ি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে।