পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত ক্রমেই ভারতের জাতীয় পর্যায়ের বিরোধী রাজনীতির অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠছে। কংগ্রেসের তরফে আগেই এই প্রসঙ্গে মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। এবার এ ইস্যুতে মমতার পক্ষে সরব হয়েছে দেশটির অন্য বিরোধী দলগুলোও। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদিবিরোধী ‘মুখ’ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ে প্রচারও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ‘বাঙালি প্রধানমন্ত্রী’ হ্যাশট্যাগ প্রচার।
বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির মোকাবিলায় তৃণমূল নেত্রীকে তুলে ধরার পক্ষে নেটমাধ্যমে প্রচার শুরু হয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিজেপিবিরোধী নেটাগরিকদের বড় অংশ ধীরে ধীরে সেই প্রচারে শামিল হচ্ছেন। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহে নেটমাধ্যমে আরও জোরালো হয়েছে সেই প্রচার।
গত রবিবার থেকেই মমতার ছবি দিয়ে ‘বাঙালি প্রধানমন্ত্রী’ হ্যাশট্যাগে প্রচার শুরু হয়। সাবেক ক্রিকেটার তথা তৃণমূল বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি সোমবার ‘বাঙালি প্রধানমন্ত্রী’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে টুইট করেন। লেখেন, ‘বাংলা আজ যা ভাবছে, ভারত কাল তা ভাববে’। মোদি এবং অমিত শাহর মডেল ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে মনোজ লেখেন, ‘দিদিই আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। যেভাবে উনি উন্নয়নের মডেল বাস্তবায়িত করে বাংলাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’
তৃণমূলের রাজ্যসভার আরেক নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের ভাষায়, ‘বিষয়টি আর শুধুমাত্র বাংলার নয়। এটি এখন দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগস্ট মাসে বসবে পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন। সেখানে আমরা আলাদা করে নয়, সব বিরোধী দলই এ নিয়ে আওয়াজ তুলবে।’
তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুরশেখর রায় এদিন টুইট করেছেন, ‘তিন বছরের জন্য অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য সচিবকে নিজের মুখ্য উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর মাস্টার স্ট্রোক। মোদি সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে একজোট হতে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে আহ্বান করা হচ্ছে।’
সোমবারও আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নর্থ ব্লকে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি গিয়েছিল নবান্নে। তারপরই সাংবাদিক সম্মেলন করে আলাপনকে নিজের মুখ্য উপদেষ্টা পদে নিয়োগের ঘোষণা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কেন্দ্রের এই আচরণের প্রতিবাদে তিনি দেশের বিরোধী দল শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী নেতাদের একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন। রাজনৈতিক সূত্রের মতে শুধু ডাক দেওয়াই নয়, তিনি জাতীয় স্তরে বিভিন্ন বিরোধী দলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথাও বলছেন।
তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হয়েছে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, এসপির অখিলেশ সিংহ যাদব, আপের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো নেতাদের। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দফায় দফায় নেতারা যোগাযোগ করছেন তৃণমূলের সঙ্গে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ নেতা কেজরিওয়াল এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া কেন্দ্র-রাজ্য লড়াই প্রসঙ্গে টুইটারে বলেছেন, ‘এটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে লড়াই করার সময় নয়। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করার কথা।’
শিবসেনার রাজ্যসভার উপনেতা প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী টুইট করেছেন, ‘বাংলার বাঘিনী : ১, দিল্লির কাগুজে বাঘ : ০!’
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের সময় থেকেই মমতার পাশে রয়েছেন এসপি নেতা অখিলেশ। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বকে সমর্থন করছেন তিনি। দলের পক্ষ থেকে কিরণ¥য় নন্দ জানিয়েছেন ‘এটা প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয়। আমরা সম্পূর্ণভাবে এই বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছি।’